বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের বদলি তালিকা ঘিরে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ২৬ জুলাই ৷৷ বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের কাজকর্মে রীতিমতো বিষ্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে৷ একটি বদলির তালিকায় যার নাম রয়েছে সেই শিক্ষকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে৷ শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষক দপ্তরের মন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন৷


বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ইউ কে চাকমার স্বাক্ষর সম্বলিত একটি বদলির তালিকা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দেববর্মা৷ জানা গিয়েছে, গত ২৭/০৭/২০২০ তারিখে মেলাঘর ঠাকুরপাড়া হাইসুকলের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দেববর্মার হাতে দপ্তরের তরফ থেকে বদলির তালিকা পৌছে৷ সেই তালিকায় লেখা রয়েছে ৩১ জুলাই ২০২০ তারিখের মধ্যে প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দেবর্বমাকে গোমতী জেলার উদয়পুরে পূর্বফুটামাটি হাইসুকলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে৷ এই বদলির তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে প্রদীপ দেববর্মার নাম রয়েছে৷ এই অর্র্ডরে লেখা রয়েছে প্রদীপ দেববর্মা ধলাই জেলার গন্ডাছড়া আনন্দমোহন রোয়াজা স্মৃতি হাইসুকলে প্রধানশিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন৷ অথচ প্রদীপ দেববর্মা ২০১৯ সালের ৮ মার্চ ওই সুকল থেকে বদলি হয়ে মেলাঘর ঠাকুরপাড়া হাইসুকলে আসেন৷ ওই বদলির অর্র্ডরের নম্বর এফ২/১১/৪/সেক-২০১৮ শিক্ষা দপ্তর, ত্রিপুরা সরকার৷ এই বদলির পর প্রদীপ দেববর্মা ঠাকুরপাড়া সুকলেই দায়িত্বে রয়েছেন৷ অথচ অতিরিক্ত সচিব ইউকে চাকমার স্বাক্ষর সম্বলিত বদলির তালিকায় প্রদীপ দেববর্মার কর্মস্থল এখনো গন্ডাছড়ার আনন্দমোহন রোয়াজা স্মৃতি হাইসুকলেই দেখানো হয়েছে৷

এই বদলির তালিকা দেখে হতবাক হয়ে যান প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দেবর্বমা৷ কিভাবে দপ্তর এমন ভুল করলো এই প্রশ্ণ তুলেছে শিক্ষা সংগঠনের গেজেটেড অফিসাররা৷ শিক্ষা বিভাগের গেজেটেড অফিসারদের বক্তব্য হল, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের গেজেটেড সেকশনের ব্রাঞ্চ অফিসার দেবব্রত চক্রবর্তী এই ভূল কেমন করে করলেন৷ গেজেটেড অফিসারদের বক্তব্য হল, ওই ব্রাঞ্চ অফিসারের হাত দিয়েই ফাইল উদ্ধর্তন কতিপক্ষের কাছে পৌছে৷ ব্রাঞ্চ অফিসার দেবব্রত চক্রবর্তী জানেন প্রদীন দেববর্মা ঠাকুরপাড়া সুকলেই কর্মরত রয়েছেন৷ কারণ, গন্ডাছড়া থেকে যখন প্রদীপ দেববর্মা বদলি হয়েছিলেন তখন ওই বদলির তালিকায় ৩৫ নম্বরে ছিলেন দেবব্রত চক্রবর্তীও৷ উনি ভবানিপুর হাইসুকল থেকে লংকামুড়া হাইসুকলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বদলি হয়েছিলেন৷ এরপর দেবব্রত চক্রবর্তী ব্রাঞ্চ অফিসার হয়ে সেকেন্ডারি সুকল ডিপার্টমেন্টের গেজেটেড সেকশন অফিসে কাজে যোগ দেন৷ প্রদীপ বাবুর বক্তব্য হল, এই বদলির তালিকা প্রস্তুত করার সময় দেবব্রতবাবু এই ভূল কিভাবে করলেন৷ শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত সচিব ইউ কে চাকমাও কিভাবে স্বাক্ষর করলেন৷


এর পেছনে ষড়যন্ত্রমূলক বিষয় কাজ করছে বলে প্রদীপবাবূুর অভিযোগ৷ তিনি অবিলম্বে এই বদলির তালিকার বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে চলেছেন এবং ব্রাঞ্চ অফিসার দেবব্রত চক্রবর্তী কঠোর সাজা চাইছেন৷ প্রদীপ দেববর্মা আরও জানিয়েছেন, এই পদে কাজ করার সময় সামান্ন ভুলের জন্য ইভা দাশকে ওসডি থেকে বদলি করা হয়েছিল এবং স্বপন সরকারকে উমাকান্ত সুকলের প্রধান শিক্ষক থেকে বদলি করে গর্জি সুকলে পাঠানো হয়েছিল৷ কারণ, উমাকান্ত সুকলে পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে একটি রুমে গার্ড ছিল না৷ এই সামান্ন ভুলের জন্য বদলি করা হয়েছিল৷ বিশ্বজিৎ পালকেও পশ্চিম জেলা জোনাল অফিস থেকে বামুটিয়াতে বদলি করা হয়েছিল৷ এক্ষেত্রে বিশ্বজিৎ পাল ভুল করেছিলেন ডেপুটেশন অর্ডারে ১০৩২৩ এর একজন শিক্ষকের নাম ছিল৷ যদিও এই ভূল কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিশ্বজিৎবাবু সংশোধন করে নিয়েছিলেন৷

তাহলে এখন পর্যন্ত প্রদীপ দেববর্মার বদলির তালিকায় বর্তমান কর্মস্থলে জায়গাটি কেন ঠিক করা হলো না প্রশ্ণ তুলেছে খুদ প্রদীপ দেববর্মা এবং শিক্ষা সংগঠনের গেজেটেড সেকশন৷ আরও অভিযোগ দেবব্রত চক্রবর্তী সেকেন্ডারি এডুকেশন ডিপার্টমেন্টে বসে বসে নানা ধরনের উল্টোপাল্টা বদলির তালিকা বানাচ্ছেন৷ যা নিয়ে শিক্ষা বিভাগের গেজেটেড সেকশন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ৷ দেবব্রত চক্রবর্তীর এই অনৈতিক কাজের কি কোন ব্যবস্থা নেবেন শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ এমনটাই প্রশ্ণ তুলেছেন শিক্ষা গেজেটেড অফিসার ইনচার্জ৷ গেজেটেড অফিসারদের বক্তব্য হল যদি সামান্য ভুলের জন্য গেজেটেড সেকশন সেকেন্ডারি সুকল এডুকেশন এর ব্রাঞ্চ অফিসার ইভা দাস, বিশ্বজিৎ পাল এবং স্বপন সরকাররা বদলি হতে পারেন তাহলে সমদোষে দোশি সেকেন্ডারি সুকল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট এর ব্রাঞ্চ অফিসার দেবব্রত চক্রবর্তী বদলি হবে না কেন?