নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ জুন৷৷ ত্রিপুরায় এক দিনে আরও ৪৫ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে৷ এ নিয়ে একদিনে ৮২ জনের দেহে করোনা-র সংক্রমণ পাওয়া গেছে৷ অন্যদিকে, আজ কোভিড-১৯ নেগেটিভ আসায় ৩৭ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ তাতে, বর্তমানে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০৪৬৷ তাঁদের মধ্যে ৭২৬ জন করোনা সংক্রমিত সক্রিয় রয়েছেন৷
শনিবার দিনের শুরুতেই করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল৷ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আজ সকালে এক টুইট বার্তায় বলেন, আজ ২১০টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে৷ তাঁদের মধ্যে সিপাহিজলা জেলায় ৩৪ জন এবং গোমতি জেলায় ৩ জনের দেহে করোনা-র সংক্রমণ মিলেছে৷
রাতে পুনরায় তিনি টুইট বার্তায় জানান, আরও ৪৫ জনের দেহে করোনা-র সংক্রমণ মিলেছে৷ ১,৮৬০টি নমুনা পরীক্ষায় তাঁদের সন্ধান পাওয়া গেছে৷ তিনি বলেন, নতুন চিহ্ণিত করোনা আক্রান্ত সকলের বহিঃরাজ্যে সফরের তথ্য রয়েছে৷ এদিন তিনি করোনা সংক্রমিতদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, ওই ৪৫ জনের মধ্যে সিপাহিজলা জেলার ৪৪ জন এবং পশ্চিম জেলার ১ জন বাসিন্দা৷
প্রসঙ্গত, আজ ত্রিপুরায় ২,০৭০টি নমুনা পরীক্ষায় ৮২ জনের দেহে করোনা-র সংক্রমণ মিলেছে৷ তাতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০৪৬৷ তাঁদের মধ্যে ৭২৬ জন করোনা আক্রান্ত সক্রিয় রয়েছেন৷ কারণ, আজ ৩৭ জন করোনা আক্রান্তের কোভিড-১৯ রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে এবং তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে৷
এদিকে, সিপাহিজলা জেলায় সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে৷ অন্যদিকে, আক্রান্তের নিরিখে ধলাই জেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে৷ নতুন করে করোনা আক্রান্তদের জেলাস্তরে কোভিড কেয়ার সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা হবে৷
এদিন মুখ্যমন্ত্রী টুইট বার্তায় আরও জানান, আজ কোভিড-১৯ রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় ৩৭ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ তিনি করোনা আক্রান্তদের সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কৃতিত্ব দিয়ে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বাকি করোনা আক্রান্তদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন৷
এদিকে, দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শীর্ষ পর্যায় বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা: হর্ষবর্ধন৷ এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট দফতরের শীর্ষ আমলারা
৷ পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জারি হওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে বৈঠকে দেখা গিয়েছে যে দেশের মোট আক্রান্তের সংখ্যার মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই পাঁচটি রাজ্য থেকে হয়েছে৷ করোনায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের বড় শহরগুলি৷ এদিনের বৈঠকে বিপুল পরিমাণে পরীক্ষা এবং চিকিৎসা পরিষেবা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন প্রধনমন্ত্রী৷বৈঠকে জরুরি পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা তৈরির জন্য রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযোগ রেখে চলতে বলেন প্রধানমন্ত্রী৷
বৈঠকে দিল্লির করোনা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়৷ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী দফতরের প্রিন্সিপাল সেকেটারি, ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, হেলথ সেক্রেটারি, আইসিএমআরের ডিজি৷
উল্লেখ করা যেতে পারে, বিগত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজারের বেশি৷ সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩,০৮, ৯৯৩৷

