নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ মে৷৷ চেন্নাই ফেরত চারজনের দেহে করোনা সংক্রমণ মিলেছে৷ তাদের আগামীকাল আগরতলায় আনা হবে৷ সবমিলিয়ে রাজ্যে ১৭৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ বহির্রাজ্য ফেরত ত্রিপুরার নাগরিকদের দেহে করোনা সংক্রমনের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের চিন্তা বাড়িয়েছে৷
আজ রাতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এক ট্যুইট বার্তায় বলেন, ৮৫০টি নমুনা পরীক্ষায় চারজনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে৷ তারা সকলেই চেন্নাই থেকে ফিরেছেন৷ স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর ওই চারজনের মধ্যে দুইজন সিপাহীজলা জেলার, একজন ঊনকোটি এবং একজন ধলাই জেলার বাসিন্দা৷ স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারীকের কথায় ওই চারজন করোনা আক্রান্তের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতেই একান্তবাসে রাখা হবে৷ আগরতলায় ফেরত আসার পাঁচদিন পর তাদের পরিবারের সদস্যদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে৷
প্রসঙ্গত, রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্তের ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করা হচ্ছে৷ কারণ, চারজন করোনা আক্রান্তই সাধারণ নাগরিক৷ তাদের সংস্পর্শে যারা রয়েছেন তাদের চিহ্ণিত করতে হবে৷ আগরতলা রেলস্টেশনে নেমে তারা বেসরকারী গাড়িতে কিংবা নিজস্ব গাড়ি করে বাড়ি ফিরেছেন৷ ফলে, তাদের সংস্পর্শে আসা সকলকেই খঁুজে বের করে একান্তবাসে পাঠাবে স্বাস্থ্য দপ্তর৷
এদিকে, ত্রিপুরায় আরও ২৭ জন করোনা-আক্রান্ত সুস্থ হয়েছেন৷ তাঁদের কোভিড কেয়ার সেন্টার থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ তাঁরা প্রত্যেকেই বিএসএফ জওয়ান৷ এখন তাঁদেরকে বিএসএফ প্রাতিষ্ঠানিক একান্তবাসে রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে৷ বর্তমানে ৫১ জন করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে৷
করোনা মোকাবিলায় নয়া চিকিৎসা নীতি মেনে আজ মঙ্গলবার ২৭ জন করোনা- আক্রান্তকে ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ তাঁরা ভগৎ সিং যুব আবাসে কোভিড কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ নয়া চিকিৎসা নীতি অনুযায়ী করোনা আক্রান্তের ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ছুটি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ তবে জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম৷ ভগৎ সিং যুব আবাসে চিকিৎসাধীন করোনা-আক্রান্ত বিএসএফ জওয়ানরা মোটামুটি সুস্থই ছিলেন৷ তাঁদের করোনা-র কোনও লক্ষণ ছিল না৷ ফলে, আজ ২৭ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে৷
বর্তমানে ৫১ জন করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে৷ তাঁদের মধ্যে ৫ জন জিবি হাসপাতালে এবং বাকি ৪৬ জন ভগৎ সিং যুব আবাসে চিকিৎসাধীন৷
ত্রিপুরায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুুস্থ হওয়ার হার দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ৷ বর্তমানে এই হার ৬৮.৬৩ শতাংশ৷ আজ মহাকরণের প্রেস কনফারেন্স হলে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ ত্রিপুরায় কোভিড-১৯ সংক্রমণজনিত সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন৷
তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে ফেসিলিটি কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৫৩ জন৷ হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪,৩৪৮ জন৷ আজ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬,২৬৯ জনের৷ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫,০৮৩ জনের৷ এদের মধ্যে রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে ১৬৯ জনের৷ আজ মোট ১,১৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ এরমধ্যে ৭০০টি নমুনা পরীক্ষাধীন৷ এছাড়াও ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের অধীনে হাপানিয়াস্থিত প্রদর্শনী কেন্দ্রকে করোনা সেন্টার করার জন্য ১ হাজার শয্যার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ শিক্ষামন্ত্রী জানান, আজ চুড়াইবাড়ি দিয়ে ৩৯৫ জন রাজ্যে প্রবেশ করেছেন৷ এরমধ্যে ১২৯ জন ট্রাক চালক এবং ২৬৬ জন সাধারণ নাগরিক৷ এছাড়া দামছড়া দিয়ে ২৭ জন রাজ্যে প্রবেশ করেছেন৷ এদিন চুড়াইবাড়ি দিয়ে ৪১৩টি যানবাহন রাজ্যে প্রবেশ করেছে৷ এদের মধ্যে ৪৪টি যানবাহন হটস্পট এলাকা থেকে এসেছে৷
শিক্ষামন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারকে বিনামূল্যে ৫টি ভেন্টিলেটর প্রদান করেছে টাটা ট্রাস্ট৷ এনিয়ে এখন কোভিড হাসপাতালে মোট ৯টি ভেন্টিলেটর রোগীদের ব্যবহারের জন্য থাকবে৷

