করোনার উৎসের খোঁজে বিএসএফ ক্যাম্পে গেল কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ মে৷৷ ত্রিপুরায় করোনার উৎস সন্ধানে আজ ধলাই জেলায় সরেজমিনে অনুসন্ধান করলেন কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দল৷ তাঁরা আজ সকালেই আগরতলা থেকে ধলাই-এর উদ্দেশে রওয়ানা দেন৷ ধলাই-তে তাঁরা বিএসএফ-র ১৩৮ এবং ৮৬ ব্যাটেলিয়ান পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেন৷ বিএসএফ-র পদস্থ আধিকারিক ও জওয়ানদের সাথেও তাঁরা আলোচনা করেছেন৷
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা সরকারের অনুরোধে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে মেঘালয়ের রাজধানী শিলঙে অবস্থিত ‘নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল হেল অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্স’ (নেইগ্রিমস) থেকে এই দল এসেছে৷ কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. জি কে মেধির নেতৃত্বে দল ত্রিপুরা সফর করছে৷

দলের অন্য সদস্যরা যথাক্রমে নেইগ্রিমস-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. ভূপেন বর্মন এবং শিলঙে অবস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ রিজিওনাল অফিসের আঞ্চলিক অধিকর্তা ডা. এস ডি মজুমদার৷ ত্রিপুরায় অধিকাংশ করোনা আক্রান্ত বিএসএফ-এর জওয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্য৷ এক্ষেত্রে করোনা-র উৎস খুঁজে বের করতে পারেনি ত্রিপুরা সরকার এবং বিএসএফ৷ তাই, ত্রিপুরা সরকার এনসিডিসি-র কাছে করোনা-র উৎস খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছিল৷ সে মোতাবেক স্টেট সার্ভেইলেন্স অফিসার সেন্ট্রাল সার্ভেইলেন্স ইউনিটকে করোনা আক্রান্তের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন৷ মূলত, গোষ্ঠী সংক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যেই ত্রিপুরা সরকার চাইছে বিশেষজ্ঞ টিম করোনা-র উৎস খুঁজে বের করুক৷


বৃহস্পতিবার তাঁরা ত্রিপুরায় এসে প্রথমে জেলাশাসক কার্যালয়ে ধলাইয়ের জেলাশাসক ব্রহ্মজিৎ কৌরের সাথে বৈঠক করেছেন৷ এর পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেন তাঁরা৷ মাঝে বিএসএফ-এর সাথেও তাঁরা দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন৷ এর পর অনেক রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং ত্রিপুরার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সাথে তাঁরা ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেছেন৷ রাত ১০টা নাগাদ তাঁরা আগরতলায় ফিরেছেন৷


গতকাল সকালে সচিবালয়ে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে সচিবালয়ে বৈঠক হয়েছে৷ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তাঁরা৷ এর পর এজিএমসি এবং জিবি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে বিশেষজ্ঞ দলটি৷ দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, আজ অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের সাথে আলোচনার পর এজিএমসি-র প্রিন্সিপাল এবং জিবি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারের সাথেও তাঁরা দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন৷ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন এবং ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেছেন৷ তাতে এখন পর্যন্ত ত্রিপুরায় করোনা মোকাবিলায় ত্রিপুরা সরকারের ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক বলে তাঁদের মনে হয়েছে৷


আজ ধলাই জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং অতিরিক্ত জেলা শাসক-কে সাথে নিয়ে তারা বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন৷ কিন্তু, অনুসন্ধানে কি বেরিয়ে এসেছে সে-বিষয়ে তাঁরা মুখ খুলেননি৷ অবশ্য, ত্রিপুরা সরকারের কাছে তাঁরা রিপোর্ট পেশ করবেন৷ হয়তো, করোনা-র উৎস কোথায় ছিল, তখনই জানা সম্ভব হবে৷