কার্ড না থাকলেও দু’মাসের খাদ্যসামগ্রী পাবেন পরিযায়ীরা : অর্থমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ১৪ মে (হি.স.): করোনা-সংকট থেকে দেশকে রোযা করার জন্য ২০ লক্ষ কোটির আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা করা সেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র শিল্প, নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল সংস্থা-সহ একাধিক খাতে পুনরুজ্জীবন প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপের প্যাকেজ ঘোষণা করছেন নির্মলা সীতারামন। সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরও। সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই নির্মলা সীতারামন জানান, আজ মোট ৯টি পদক্ষেপের ঘোষণা হবে। তার মধ্যে তিনটি প্যাকেজ বা পদক্ষেপ থাকবে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য। কৃষকদের জন্য়ও প্যাকেজের ঘোষণা থাকবে। প্রথমেই গরিব, নিম্নবিত্ত ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ঘোষণা। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, লকডাউনের সময় প্রধানমন্ত্রী ‘গরিব কল্যাণ যোজনা’ ছিল শুধুমাত্র গরিবদের কথা ভেবে। তার সঙ্গে আরও অনেক কিছুই যোগ হবে। ইতিমধ্যেই ৩ কোটি কৃষক ঋণ নিয়েছেন, এই ৩ কোটি কৃষক কৃষিঋণ নিয়েছেন ৪ লক্ষ কোটি। এই ঋণের ফলে গরিব কৃষকদের প্রচুর সুবিধা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, কৃষকদের জন্য় গত দু’মাসে নগদের যোগান বেড়েছে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য ক্রয়ের জন্য রাজ্যের সংস্থাগুলির জন্য ৬৭০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা ঘুরিয়ে কৃষকদের হাতেই গিয়েছে। ১১ হাজার কোটি টাকার তহবিল তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, শহরের গৃহহীনদের জন্য শেল্টার তৈরি হয়েছে।  সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষজনকে তিন বেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেই টাকা কেন্দ্র দিয়েছে।  ১২ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠী ৩ লক্ষ মাস্ক ও ১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার  স্যানিটাইজার তৈরি করেছে। এই সব স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্যের অর্থ দেওয়া হয়েছে ‘পয়সা’ পোর্টালের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১০০ দিনের কাজে মজুরি ১৮২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা করা হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক মজুরি আলাদা রয়েছে, সেটাও মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্মলা জানান, যে সব সংস্থায় ১০ জনের কম কর্মী আছে, সেগুলিতেও ইএসআই-এর আওতায় আনা হবে। শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে, বছরে এক বার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হবে। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, আগামী দু’মাস বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হবে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য।  যাঁদের কার্ড নেই, তাঁরাও মাথাপিছু ৫ কেজি করে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।  মাথাপিছু ৫ কেজি চাল বা গম এবং ১ কেজি ডাল পাবেন তাঁরা।…আমাদের হিসেবে প্রায় ৮ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে। এর জন্য খরচ হবে ৩৫০০ কোটি। ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ প্রকল্পের অধীনে রেশন কার্ড থাকলে দেশের যে কোনও প্রান্তে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যাবে। প্রথমন্ত্রী আরও জানান, হকার, ফুটপাতের দোকানদারদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর জন্য ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।