করোনা কেয়ার সেন্টার স্থাপন নিয়ে দুষ্টচক্র প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে : বিজেপি

আগরতলা, ১০ মে৷৷ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ হাসপাতাল স্থাপন এবং করোনা কেয়ার সেন্টার স্থাপন নিয়ে কিছু অসাধু দুষ্টচক্রী নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে৷ একই সঙ্গে এরা সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগনের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে৷ এদের পেছনে রাজ্যের বিরোধী দলের কতিপয় নেতার প্রত্যক্ষ ভূমিকাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷


দীর্ঘ বেশ কয়েকমাস ধরে সমগ্র বিশ্বে মানবজাতির জন্য সৃষ্ট সঙ্কটকালের প্রভাব সর্বত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে৷ যদিও সারাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরাও করোনা সংক্রমণ বিরোধী যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্যেও বিস্তর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে৷
প্রথম থেকেই বিপ্লব কুমার দেব নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত সরকার কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধ গুচ্ছ ব্যবস্থাদি নেয়৷ ফলে বিভিন্ন রাজ্যে সংক্রমিতদের সংখ্যা বাড়লেও এই রাজ্যে তার কোন প্রভাবই বিশেষ লক্ষ্য করা যায়নি৷ যদিও করোনার প্রভাবে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত বাংলাদেশকে ঘিরে শঙ্কা ছিল বিভিন্ন মহলে৷


যদিও এখন পর্যন্ত রাজ্যের সচেতন নাগরিকরা করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছেন৷ এইজন পার্টি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে৷ কিন্তু আগামীদিনেও কিছু কঠোর নিয়মানুবর্তিতা পালন করা বিশেষ প্রয়োজন৷ একই সঙ্গে রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারা যারা কোন না কোন কারণে বহিঃরাজ্যে গিয়ে আটকে পড়েছেন তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ এই অবস্থায় তাদের প্রতিও যথেষ্ট সহযোগীতার মনোভাব পালন করতে হবে পার্টির কার্যকর্তা এবং সচেতন নাগরিকদের৷
গত কয়েকদিনে রাজ্যের পরিস্থিতিও অনেক পরিবর্তন হয়েছে৷ সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ান ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে৷ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকেও কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে৷


জনকল্যাণকামী সরকার হিসেবে বিপ্লব কুমার দেব নেতৃত্বাধীন সরকার কোন অবস্থাতেই রাজ্যের মানুষের সুরক্ষাকে খাটো করে দেখতে পারেনা৷ রাজ্যবাসীর জীবন ও স্বার্থরক্ষা সরকারের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷
শতাধিক জওয়ান সংক্রমিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য সরকার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাকে বাদ দিয়ে বাকি ৭টি জেলায় করোনা কেয়ার সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ সম্ভাব্য যেকোন বিরূপ পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই সেন্টারগুলি স্থপানের উদ্যোগ নিয়েছে৷


রাজ্যের কোথাও সংক্রামিতদের পাওয়া গেল তাদের শারিরীক অবস্থার নিরিখে সংশ্লিষ্ট সেন্টারগুলিতে নিয়ে আসা হবে৷ ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি ডা. মানিক সাহা রাজ্যের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে পার্টির সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যকর্তাদের সঙ্গে বার্তালাপ করেছেন৷ পার্টির কার্যকর্তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিভাবে তাদের সামাজিক দায়-দায়িত্ব পালন করবেন তা নিয়েও তিনি নির্দেশিকা জারি করেছেন৷


পার্টির রাজ্য সভাপতি ডা. মানিক সাহা পার্টির সমস্ত জনপ্রতিনিধি এবং কার্যকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন৷ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ হাসপাতাল স্থাপন এবং করোনা কেয়ার সেন্টার স্থাপন নিয়ে কিছু অসাধু দুষ্টচক্রী নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে৷ একই সঙ্গে এরা সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগনের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে৷ এদের পেছনে রাজ্যের বিরোধী দলের কতিপয় নেতার প্রত্যক্ষ ভূমিকাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷


এই অবস্থায় পার্টির সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি এবং কার্যকর্তাদের সদা সতর্ক থেকে যেকোন ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জনগনের স্বার্থে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলি সঠিক বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা নেবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি৷ তবে পার্টির সর্বস্তরের কার্যকর্তাদের নিজেদের সুরক্ষাবিধি মেনে চলার আহ্বানও তিনি জানিয়েছেন৷