শূকরের মাংস খেতে বারণ করা গোমতির পুলিশ সুপারের উচিত হয়নি : এসিএস

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ মে৷৷ শূকরের মাংস খেতে নিষেধ করা গোমতি জেলার পুলিশ সুপারের উচিত হয়নি৷ কারণ, ত্রিপুরায় আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের কোনও ঘটনা নজরে আসেনি৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে স্পর্শকাতর ঘটনায় পুলিশের পদস্থ আধিকারিকের ভূমিকায় এভাবেই বিরক্তি প্রকাশ করেন ত্রিপুরার অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এস কে রাকেশ৷


প্রসঙ্গত, অসমে শূকরে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু থাবা বসিয়েছে৷ অবশ্য ত্রিপুরার প্রাণী রোগ বিশেষজ্ঞের কথায়, অসমে শূকরে আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে৷ তাতে শূকর আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারাও যাচ্ছে৷ তাঁর দাবি, ওই রোগ মানুষের মধ্যে ছড়ানোর কোনও সম্ভাবনা নেই৷ কারণ, ওই রোগের সংক্রমণ এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীর শরীরে ছড়ায় না৷


অসমে শূকরে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের ঘটনায় গতকাল গোমতির পুলিশ সুপার জেলা পুলিশ প্রশাসনকে শূকরের মাংস খেতে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দেন৷ তাতে স্থানীয় সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করা যাবে বলে তিনি মনে করেন৷ পরবর্তী আদেশ আসা পর্যন্ত ওই পরামর্শ মেনে চলার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি৷ পুলিশ সুপারের ওই সতর্কবার্তায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, ত্রিপুরা সরকারের প্রাণী সম্পদ দফতরের সাথে কোনও আলোচনা ছাড়াই জেলা পুলিশ সুপারের ওই পদক্ষেপে দফতরের পদস্থ আধিকারিকরাও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন৷

এ-বিষয়ে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এস কে রাকেশ আজ বলেন, অসমে শূকরে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে৷ আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু-তে অসমের শূকর আক্রান্ত হচ্ছে৷ কিন্তু ত্রিপুরায় ওই রোগের প্রভাব পড়েনি৷ তিনি অভয় দিয়ে বলেন, ত্রিপুরায় শূকরের মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ৷ ফলে, শূকরের মাংস খেতে বারণ করার প্রশ্ণই উঠে না৷ তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, শূকর-র মাংস খেতে বারণ করা গোমতী জেলা পুলিশ সুপারের উচিত হয়নি৷ তাঁর কথায়, অসমে ওই রোগের প্রাদুর্ভাব নজরে আসতেই ত্রিপুরায় শূকর বহিঃরাজ্যে আমদানি ও রফতানি-তে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ তাই, অযথা শূকর নিয়ে চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই৷