প্রবীণ সিপিআইএম ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা পীযূষ নাগের জীবনাবসান

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ এপ্রিল৷৷ প্রবীণ সিপিআইএম এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতা পীযূষ নাগের জীবনাবসান হয়েছে৷ পীযুষ নাগের প্রয়াণে সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী গভীর শোক প্রকাশ করেছে৷ সকালে তিনি আগরতলার জয়নগরের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷ তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর৷

মেডিকেল অ্যান্ড সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭০ দশকের গোড়ায় তিনি সিআইটিইউ এবং পরবর্তী সময় সিপিআইএম’র সংস্পর্শে আসেন৷ ১৯৭৩ সালে তিনি সিপিআইএম’র সদস্যপদ পেয়েছিলেন৷ তিনি দীর্ঘ সময় সিআইটিইউ’র ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক এবং পরবর্তী সময় কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন৷ ছিলেন সিআইটিইউ’র সর্বভারতীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য৷ তিনি সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন৷ বিভিন্ন ট্রেডের শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার নানান সমস্যা নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছেন৷ গণআন্দোলন ও শ্রেণি আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে৷ অসুস্থতা ও বয়সের কারণে ২০১৮ সালে তিনি সিপিআইএম রাজ্য কমিটি থেকে অব্যাহতি নেন৷ মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি পার্টির পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য ছিলেন৷ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কমরেড পীযূষ নাগের অবসান রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে৷ তাঁর পরিবার-পরিজনদের শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছে৷


চলে গেলেন প্রবীণ সিট্যু নেতা পীযূষ নাগ৷ দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন৷ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন৷ সবকিছু সত্ত্বেও প্রিয়জনের প্রয়াণ মেনে নেওয়া কঠিন৷ মর্মান্তিক৷ বেদনাদায়ক৷ তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার৷ তিনি পরিবার পরিজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন৷ উল্লেখ্য, তিনি মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ ছিলেন৷ পোশাক-পরিচ্ছদে ছিলেন টিপ্টপ্৷ কথাবার্তায় ছিলেন মার্জিত৷ নিজের পেশায় কাজ করতে গিয়েই ত্রিপুরায় সিআইটিইউ’র সংস্পর্শে আসেন৷ তৎকালীন সময়ে ত্রিপুরার বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলনের মুখ ও মুখ্যব্যক্তিত্ব বীরেন দত্তের সান্নিধ্যে আসেন৷ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বীরেন দত্তের কাছেই বেসরকারি সংস্থার কাজ ছেড়ে দিয়ে শ্রমিক আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তোলার কাজে নিজেকে সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে যুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন৷ গৃহীত হলো তাঁর প্রস্তাব৷ শুরু হলো নতুন পথে যাত্রা এবং একই সাথে জীবনের ভিন্ন অধ্যায়৷ সিআইটিইউ’র কাজে মনপ্রাণ ঢেলে দিলেন৷ সিআইটিইউ’র রাজ্য কর্মস্থল অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ঢেলে সাজিয়ে ও গুছিয়ে তুলেছিলেন৷


এই কর্মস্থল ছিল তাঁর প্রাণ৷ সংগঠনের সর্বোচ্চস্তরে নিজের দক্ষতা ও কর্মগুণে অধিষ্ঠিত হলেও সংগঠনের অনুমোদিত ও সান্নিধ্যে আসা বিশেষ করে ছোট সংগঠন সমূহকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে পরিচর্যা করতেন৷ আন্তর্জাতিকস জাতীয় ও রাজ্যের শ্রম আইন ছিল প্রায় তাঁর নখদর্পণে৷ শ্রমিক মালিক বিরোধ মীমাংশায়, ত্রিপক্ষীয় সভায়, শ্রমিকদের স্বার্থের জাগ্রত প্রহরি হিসাবে তাঁর উপস্থিতি ছিল একান্ত আবশ্যক৷ বিরোধের সুনিপুন মীমাংশায় সমাদ্রিত ছিলেন সকলের কাছে৷ শ্রমজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিপত্র তৈরি, কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে স্মারকপত্র তৈরিতে মুন্সীয়ানার স্বাক্ষর রেখেছেন৷ অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব এ কাজে সাহায্যের প্রশ্ণে তাঁর উপর ছিলেন প্রায় পুরোমাত্রায় নির্ভরশীল৷ শ্রমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন কাজকেই তিনি ছোট মনে করতেন না৷ এমনকি শ্রমিকদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সমস্যা সুরাহাতে নিতেন আন্তরিক ভূমিকা৷ সবমিলিয়ে তাঁর মতো যোগ্য-দক্ষ এবং শ্রমজীবীদরদি নেতার অনুপস্থিতি বিশেষ করে বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে অনুভব হতে বাধ্য৷ তাঁর শূন্যতা পূরণে শ্রমিক আন্দোলনের নবীন কর্মীদের আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে৷ এটাই হবে পীযূষ নাগের প্রতি যথাযোগ্য শ্রদ্ধা প্রদর্শন৷