নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ মার্চ৷৷ ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকারের যুগকে ‘রাজ্যের কালো অধ্যায়’ বলে কটাক্ষ করলেন শিক্ষা মন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় মানুষ শান্তিতে জীবনযাপনের পথ খুঁজে পাচ্ছিল না৷ তাই, তাঁরা ক্ষমতায় বিজেপি-কে এনেছেন৷
আজ সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘‘ত্রিপুরার মানুষ এখন সন্ত্রাসমুক্ত৷ নির্বাচনে তাঁরা বিজেপিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছিলেন৷ ৩ মার্চকে কালো দিবস বলে গৌতম দাশের মন্তব্য ত্রিপুরার জনগণের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের স্বরূপ৷ এর তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত, তোপ দাগেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তাঁর দাবি, গৌতম দাশ মারাত্মক ভুল করেছেন৷ প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ সাংবাদিক সম্মেলন করে ওইদিনটিকে কালো দিন বলে সমালোচনা করেছেন৷
আজ শিক্ষামন্ত্রী বাম জমানায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তথ্যভিত্তিক উদাহরণ তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত প্রায় ১১৪০ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে৷ এমনকি, ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম বছরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ডাকাতির রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল৷ ওই বছর ২০৬টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল৷ অবশ্য, ২০১৮ সালে মাত্র ১০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে৷ এদিন শ্রীনাথ দাবি করেন, বিজেপি ত্রিপুরায় সরকার গঠনের পর রাজ্যে ধর্ষণের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে৷
এক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ’১৯৯৩-২০১৭ পর্যন্ত ৩৭৫৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এবং শুধু ২০১৪ সালে ত্রিপুরায় ২৩৯ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ সেই তুলনায় ২০১৮-১৯ সালে ৩৫৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে’৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরায় সর্বাধিক সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং জওয়ান বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে মারা গিয়েছেন৷ ’রাজ্যে সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি বামফ্রন্ট সরকারের সাথে শুরু হয়েছে এবং যার জন্য সর্বমোট ৪৭৮২ জন খুন হয়েছিলেন, ৩,১৫৪ জন অপহরণ করেছিল, ৪২৫ জন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ত্রিপুরার পুলিশ ও টিএসআরের জওয়ান মারা গিয়েছিল এবং ৩৪৩ আহত হয়েছিলেন, বলেন তিনি৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরায় বাম জমানায় ৮০২ টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে৷ অথচ, আজ বামেরাই বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের উপর আঙ্গুল তুলছেন৷ তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তন হয়ে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার গঠন হওয়ার পর একটিও রাজনৈতিক খুনের ঘটনা ঘটেনি৷ মানুষ এখন ত্রিপুরায় স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে পারছেন৷

