নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারি ৷৷ এনপিআরের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে প্রচারে শামিল হবে বিরোধী দল সিপিআইএম৷ আগামী পয়লা এপ্রিল থেকে ত্রিশ সেপ্ঢেম্বর পর্যন্ত ঘরে ঘরে গিয়ে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে সরকার৷ আরএসএস পরিচালিত নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের এনপিআর সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছে সিপিআইএম৷ এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের কোন ধরনের সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছে দল৷ রবিবার সিপিআইএম-এর রাজ্য সদর কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস৷ সিপিআইএম রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহ অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাপক প্রচার আন্দোলনে শামিল হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে৷
ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণকে সমবেত করে লড়াই সংগ্রাম জোরদার করার মধ্য দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে দল৷ রবিবার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে গিয়ে রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস বলেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অস্তিত্ব নেই৷ খুন, সন্ত্রাসের ঘটনার ক্ষেত্রেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না৷ বিগত ২৩ মাসে এই রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে৷ মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে৷ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে কোণঠাসা করতে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে৷ রাজ্যের উন্নয়নের অন্যতম রূপকার প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী বাদল চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ রাজ্যের জনগণ এর যোগ্য জবাব দেবেন৷
তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷ সে কারণেই পুলিশ বাদল চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট পর্যন্ত জমা দিতে পারছে না৷ কেন না বাদল চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সপক্ষে কোন ধরনের তথ্য প্রমাণ পুলিশের হাতে নেই৷ এ ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি৷ বর্তমান সরকার এডিসির আসন সংখ্যা বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তারও তীব্র বিরোধিতা করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক৷ তিনি বলেন, আসন সংখ্যা বৃদ্ধি হলে এডিসির খরচের বহর আরও বাড়বে৷ এডিসি প্রকৃতপক্ষে একটি ডেভলপমেন্ট এজেন্সি৷ তারা উন্নয়নের টাকা সঠিকভাবে খরচ করবে এটাই নিয়ম৷ কিন্তু আসন সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এডিসি এলাকার জনগণের প্রকৃত সমস্যা সমাধান করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন গৌতমবাবু৷
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি-আইপিএফটি সরকারের আমলে জনজীবনের উপর চরম অর্থনৈতিক সঙ্কট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ রেগা, টুয়েপ সহ অন্যান্য প্রকল্পে কাজ নেই৷ কাজ ও খাদ্যের অভাবে মানুষ দিশেহারা৷ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শূন্যপদের নিয়োগ নেই৷ বর্তমান ক্ষমতায় আসার আগে একবছরে ৫০ হাজার শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি সরকার৷ উপরন্তু বিদ্যুৎ ও সমাজকল্যাণ দপ্তর সহ অন্যান্য দপ্তরে ঠিকেদারের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করে কাজ চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে৷ এ ধরনের নিয়োগের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বেতন গ্রেচ্যুরিটি পেনশন ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা পাবে না৷
এক্ষেত্রে এসসি, এসটিদের জন্য সংরক্ষণের কোনও ব্যবস্থা নেই৷ সরকার রাজ্যের সকল স্তরের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ এইসবের বিরুদ্ধে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি৷ বেকার যুবকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে সকলকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক৷ রাজ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারের উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করার জন্য বিরোধী শক্তিকে আরও শক্তিশালী করার উপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি৷

