বেঙ্গালুরুতে রহস্যজনক মৃত্যু কদমতলার যুবতীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ১৬ ডিসেম্বর৷৷ পেটের তাগিদে বহিঃরাজ্য ব্যাঙ্গালোরে কাজে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু এক তরুনীর৷ মৃত যুবতীর নাম অঞ্জলি নাথ (২১) পিতা রসেন্দ্র নাথ৷ বাড়ি উত্তরের কদমতলা থানাধীন সরল এলাকায়৷ এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে বেঙ্গালুরুর আন্দ্রাতে৷ আন্দ্রার স্থানীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পাঞ্জনি থানার পুলিশ মৃতদেহটি মৃতার ছোট বোনের হাতে তুলে দেয়৷ বোন মৃতদেহ নিয়ে রবিবার রাতে কদমতলায় নিজ বাড়িতে আসে৷ সোমবার মৃতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে৷ ওই যুবতীর মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷


ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার কদমতলা থানাধীন সরলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নং ওয়ার্ডের ক্ষুদিরাম কলোনির বাসিন্দা রসেন্দ্র মালাকারের দুই মেয়েকে আগরতলায় হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স করিয়ে ব্যাঙ্গালোরে কাজে পাঠান৷ বড় মেয়ে অঞ্জলি নাথ (২১) ওরফে চুমকি ও ছোট মেয়ে অর্পনা নাথ (১৯) আগরতলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স করে প্রায় ২ বছর পূর্বে ব্যাঙ্গালোরে হোটেলের কাজে যোগ দেয়৷ বড় মেয়ে অঞ্জলি নাথ ব্যাঙ্গালোরের করবাংলা এলাকার মারথলি রেস্টুরেন্টে ওয়েলকামের কাজে নিযুক্ত হয় ও ছোট মেয়ে নন্দনা গ্র্যান্ড হোটেলে ওয়েলকামের কাজে নিযুক্ত হয়৷


দুই মেয়ে ব্যাঙ্গালুরে হোটেলের কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে পিতা রসেন্দ্র নাথের আর্থিক দুরবস্থা কিছুটা সচল হয়৷ বেশ ভালই চলছিলো দুই মেয়ের কর্মজীবন৷ কিন্তু গত শুক্রবার রাত্রিবেলা প্রতিদিনের মতো হোটেলে কাজ শেষ করে রাত ৯ টায় ব্যাঙ্গালোরের করবাংলা এলাকার নিজ ভাড়া বাড়িতে ফিরে আসে দুই বোন৷ তখন ছোট বোন অর্পণা মোবাইলের মাধ্যমে মায়ের সাথে কথাবার্তা বলছিল৷ আর বড় বোন খাবারের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে যায়৷ কিন্তু সেই যাওয়ার পর বড় বোন অর্থাৎ অঞ্জলি নাথ আর ফিরে আসেনি৷


বড় বোনের ফিরে না আসাতে ছোট বোন ভেবেছিল হয়তো বড় বোন তার কোনো বান্ধবীর ঘরে চলে গিয়েছে৷ আর ছোট বোন কিছুটা অসুস্থ থাকাতে বড়বোনের খোঁজ করেনি৷পরের দিন অর্থাৎ শনিবার সকাল বেলা ছোট বোন অর্পনা নাথের মোবাইলে ফোন আসে অঞ্জলি নাথের মৃতদেহটি আন্দ্রা এলাকার হাসপাতালের মর্গে রয়েছে৷ তখন ছোট বোন করবাংলা এলাকা থেকে দীর্ঘ চার ঘণ্টার পথ পেরিয়ে আন্দ্রা এলাকার হাসপাতালের মর্গে গিয়ে বড় বোনের মৃতদেহটি শনাক্ত করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে৷


কিন্তু অর্পনা যাওয়ার পূর্বেই বড় বোন অঞ্জলি নাথের ময়নাতদন্ত করে নেয় স্থানীয় পাঞ্জনি থানার পুলিশ৷ স্থানীয় পাঞ্জনি থানার পুলিশ একটি আত্মহত্যার মামলা রুজু করেছে৷ মামলাটির নাম্বার হলো ১১৬/২০১৯ , ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭৪ সিআরপিসি৷ ছোট বোন অর্পনা নাথ সেখানে পুলিশের সাথে কথাবার্তা বলতে গেলে তাদের পরিচিত হোটেলের কর্মীরা অর্পনার জীবনের আশঙ্কা দেখে গাড়ি দিয়ে তড়িঘড়ি সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দেন৷ তারপর হোটেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ছোট বোন অর্পনা বড় বোন অঞ্জলীর কফিনবন্দি মৃতদেহটি গতকাল রাতে ক্ষুদিরাম কলোনিস্থিত নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে৷ মেয়ের মৃতদেহ দেখে বাবা-মা সহ আত্মীয় পরিজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন৷


এদিকে অঞ্জলি নাথের ছোট বোন অর্পনা নাথ জানায়,প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার রাত্রিবেলা কাজ শেষ করে নিজ ভাড়া ঘরে আসার পর বড় বোন অঞ্জলি নাথ রাতের খাবারের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার পর আর ফিরে আসেনি৷ পরের দিন সকাল দশটা নাগাদ খবর আসে প্রায় ৪ ঘন্টার পথ পেরিয়ে আন্দ্রা এলাকায় অঞ্জলি আত্মহত্যা করেছে৷ খবর পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানেও ছিল অর্পনা নাথের প্রাণের ভয়৷


কোনমতে বড় বোনের মৃতদেহটি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসে অর্পনা৷ অর্পনা আরো জানায়, তার বড় বোন অঞ্জলী নাথের মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু নয়৷ কে বা কারা করবাংলা এলাকা থেকে অঞ্জলীকে তুলে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে চার ঘণ্টার পথ পেরিয়ে আন্দ্রা এলাকায় মৃতদেহটি ফেলে দিয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবেই কেউ আত্মহত্যা করতে গেলে চার ঘণ্টার পথ পেরিয়ে অন্য কোথাও গিয়ে আত্নহত্যা করবে না৷আর বড় বোন অঞ্জলী নাথের আত্নহত্যা করার কোন কারণই নেই বলে জানায় অর্পনা নাথ৷ তবে আশ্চর্যজনকভাবে আন্দ্রা এলাকার পাঞ্জনি থানার পুলিশ একটি হ্যাঙ্গিং সুসাইডের মামলা রুজু করেছে৷


অপরদিকে মৃতা অঞ্জলি নাথের পিতা জানান, উনারা ফোনের মাধ্যমে বড় মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনতে পেয়ে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে৷ তাদের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা৷ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অদূর ভবিষ্যতে মৃতার পরিবারের লোকজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষূের সাথে যোগাযোগ করবে বলে জানা গিয়েছে৷