হাসপাতালে গ্রেপ্তার বাদল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ অক্টোবর৷৷ টানা ছয়দিনের লুকোচুরি খেলা শেষ হয়েছে৷ নিজে ধরা দেননি ঠিকই, কিন্তু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতেই পুলিশ প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী তথা বিধায়ক বাদল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে৷ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই দাবি করে ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার কুলবন্ত সিং জানিয়েছেন, বাদল চৌধুরী এখন চিকিৎসকদের তত্বাবধানে রয়েছেন৷ সাথে তিনি যোগ করেন, সমস্ত আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ এদিকে, ত্রিপুরা হাইকোর্টে বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদনের শুনানী সম্পন্ন হয়েছে৷ কিন্তু, আজ আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছে৷


এদিন রাতে আগরতলায় একটি বেসরকারী হাসপাতালে ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার কুলবন্ত সিং বলেন, পূর্ত ঘোটালায় প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী তথা বিধায়ক বাদল চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল৷ আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে৷ এরপর থেকে তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ তল্লাসী চালিয়েছে৷ তিনি বলেন, সাদা পোশাকে সারা রাজ্যেই পুলিশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে তাঁর খোঁজ করছিলেন৷ তেমনি এই হাসপাতালেও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল৷ কুলবন্ত সিং দাবি করেন, আজ বাদল চৌধুরী হাসপাতালে পৌঁছতেই তিনি পুলিশের নজরে আসেন৷ খবর পেয়ে তদন্তকারী পুলিশ টিম হাসপাতালে পৌঁছে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে৷ কুলবন্ত সিং জানান, বাদল চৌধুরীর চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি এখন চিকিৎসকদের তত্বাবধানে রয়েছেন৷ ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার এদিন দাবি করেন, সমস্ত আইন মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে৷ কোনও ত্রুটি যাতে না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে৷ তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনের অধীনে সমস্ত নিয়ম-নীতি মেনেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷


এদিকে, আজ বাদল চৌধুরী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আইসিইউতে রাখা হয়েছে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি অটো চড়ে স্ত্রী নমিতা গোপকে নিয়ে হাসপাতালে যান৷ এদিন, হাসপাতালে তাঁর ভর্তির খবর পেয়ে ছুটে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, প্রাক্তন সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নারায়ণ কর সহ অন্যান্যরা৷ বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার জানিয়েছেন, তিনি বাদল চৌধুরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন৷ তাঁর সাথে তিনি কথাও বলেছেন৷ তবে, তাঁর শারিরীক অবস্থা নিয়ে বিরোধী দলনেতা কোন মন্তব্য করেননি৷ এদিকে, বাদল চৌধুরী হাসপাতালে ভর্তি শোনে তাঁর শারিরীক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন সাংসদ প্রতীমা ভৌমিক৷ তিনি হাসপাতালে গিয়ে বাদল চৌধুরীকে দেখে এসেছেন৷


প্রসঙ্গত, এদিন বাদল চৌধুরীর খোঁজ পেতেই ওই বেসরকারী হাসপাতালে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়৷ ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিআইজি আর. জি. কে. রাও, ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার কুলবন্ত সিং, পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার মানিক দাস এবং তদন্তকারী অফিস অজয় কুমার দাস হাসপাতালে ছুটে যান৷


এদিকে, সোমবার পূর্ত ঘোটালায় রাজ্যের প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদনের শুনানি হয়েছে ত্রিপুরা হাইকোর্টে৷ শুনানির সময় উভয়পক্ষের আইনজীবী তাঁদের বক্তব্য পেশ করেছেন৷ তবে আদালত আজ রায়দান স্থগিত রেখেছে৷ সম্ভবত আগামীকাল দুপুরে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করতে পারে৷
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ৬০০ কোটি টাকার পূর্ত কেলেঙ্কারিতে বাদল চৌধুরী-সহ প্রাক্তন পূর্তকর্তা সুনীল ভৌমিক এবং পূর্ত দফতরের প্রাক্তন প্রধানসচিব ওয়াই পি সিংহের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স মামলা করেছে৷ পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সুনীল ভৌমিককে গ্রেফতার করেছে এবং আদালত তাঁকে পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছে৷ অবশ্য পুলিশ রিমান্ডে থাকাকালীন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷ তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ বর্তমানে তিনি জিবি হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷


প্রসঙ্গত, বাদল চৌধুরীর জামিনের আবেদন পশ্চিম জেলা দায়রা আদালত খারিজ করে দিয়েছিল৷ এরপর থেকে তাঁকে পুলিশ খুঁজে পাচ্ছিল না৷ এরই মধ্যে বাদল চৌধুরীর আইনজীবীরা ত্রিপুরা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান৷ আজ ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিন্দম লোধের অবসরকালীন বেঞ্চে ওই আবেদনের শুনানি হয়েছে৷ এদিন বাদল চৌধুরীর কৌঁসুলী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর মক্কেলের পক্ষে সমস্ত যুক্তি আদালতে তুলে ধরেন৷ তেমনি অ্যাডভোকেট জেনেরালও দুর্নীতি কীভাবে হয়েছে এবং এর সাথে বাদল চৌধুরী যুক্ত রয়েছেন তার যুক্তি দেখিয়েছেন৷ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এদিন আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছে৷ পরবর্তী শুনানির দিন আগামীকাল ধার্য হয়েছে বলে খবর৷