নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ অক্টোবর৷৷ দুই দশক বাদে ত্রিপুরায় আশ্রিত রিয়াং শরণার্থী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তা বানচালের জোর চেষ্টা চলছে৷ তবে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে ক্রমপর্যায়ে শরণার্থী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া চলছে৷ গতকাল ও আজ মিলিয়ে আরও ৬ রিয়াং শরণার্থী পরিবার মিজোরামে ফিরে গেছেন৷ উত্তর ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ত্রিপুরা থেকে ফিরে গিয়ে মিজোরামের মামিথ জেলায় সাংসারিক বিবাদের জেরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মেরেছেন তার স্বামী৷ ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় আশ্রিত রিয়াং শরণার্থীরা মিজোরামে নিরাপত্তার অভাব অনুভব করেছিলেন৷ কিন্তু, দুই রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের কথায় নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা আশ্বস্থ হয়েছেন, দাবি করেন তিনি৷

প্রসঙ্গত, মিজোরামে মামিথ জেলায় কাঞ্চনপুর আশাপাড়ার রিয়াং শরণার্থী মহিলার মৃত্যুকে ঘিরে শরণার্থী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় টালবাহানা শুরু হয়েছিল৷ গত সোমবার মিজোরাম সরকারের আধিকারিকদের রিয়াং শরণার্থীরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন৷ শুধু তাই নয়, দীর্ঘক্ষণ আনন্দবাজার, ভান্ডারিমা সড়ক অবরোধ করেও রেখেছিলেন তাঁরা৷ শেষে, ত্রিপুরা সরকারের আধিকারিকরা তাঁদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহারের বন্দোবস্ত করেন৷
শরণার্থীদের অভিযোগ, আশাপাড়া শিবিরের মহিলা লিন্ডা রিয়াং-কে মিজোরামের মামিথ জেলায় তলাংলাং গ্রামে তার স্বামী ভানলাল ভেলা পুড়িয়ে মেরেছেন৷ ওই হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা মিজোরামে ফিরে যেতে রাজি নন৷ বরং ওই হত্যার বিচার দাবি করেছেন তাঁরা৷ জানা গিয়েছে, ওই দম্পতি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন৷ তাঁদের পাঁচ মাসের একটি সন্তান রয়েছে৷ এ-বিষয়ে মামিথ জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পারিবারিক বিবাদ নয়, অসাবধানতায় ওই মহিলার আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরা থেকে শরণার্থীরা মামিথ জেলায় বসবাস শুরু করেছেন৷ওই মহিলা রান্না করার জন্য লাকড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগাতে গিয়ে নিজেই অগ্ণিদগ্দ হয়ে মারা গেছেন৷ ঘটনার তদন্তে এই বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে৷
এদিকে, উত্তর ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তীও দাবি করেন, ওই মহিলার মৃত্যুর পেছনে দুসৃকতি হামলা বা জাতি হিংসার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷ তাঁর কথায়, মিজোরামে ত্রিপুরা থেকে ফিরে শরণার্থীদের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ খেয়াল রাখা হচ্ছে৷ তাছাড়া, তাঁদের প্রয়োজনীয় সমস্ত চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে মিজোরাম সরকার৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় শিবিরগুলি থেকে ক্রমপর্যায়ে শরণার্থীরা মিজোরামে ফিরে যাচ্ছেন৷ তিনি বলেন, গতকাল ২ পরিবারের ৯ জন এবং আজ ৪ পরিবারের ১৫ জন সদস্য মিজোরামে ফিরে গেছেন৷ মিজোরাম প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁদের স্বভূমে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন৷ তিনি জানান, এই প্রক্রিয়া ক্রমাগত চলবে৷
রিয়াং শরণার্থী প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াকে ঘিরে পারিপাশর্িক পরিস্থিতিতে আন্দাজ করা যাচ্ছে, একটি চক্র এই প্রক্রিয়াকে বানচালের জোর চেষ্টা চালিয়েছে৷ এর আগেও বহুবার শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু প্রতিবার স্বার্থান্বেষী মহলের কৌশলী চালে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া ভেস্তে গিয়েছে৷ বিশেষ করে, মিজোরাম ব্রু ডিসপ্লেস পিপলস ফোরামের ভূমিকা এক্ষেত্রে সন্দেহের উদর্ে নয়৷ তবে, এবার কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অবস্থানে মনে হচ্ছে, দেরি হলেও ত্রিপুরায় আশ্রিত রিয়াং শরণার্থীদের মিজোরামে ফিরে যেতে হবেই৷

