
বারাসত, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : “নারদা কাণ্ডে আমাকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে সেটা সত্যি। কারণ আমি টাকা নিয়েছি তবে সেটা চাঁদা হিসেবে।” সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন নারদাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত বারাসতের সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্কের নতুন ভবন উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার। সেখানে তাকে নারদা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর এই মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে কাকলী দেবী জানান “নারদাকান্ডটা পুরোটাই নির্দিষ্ট একটি দল ও কিছু মানুষের বিরুদ্ধে করা একটা চক্রান্ত। যখন মহামান্য আদালতের নির্দেশে এই ষড়যন্ত্র নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এই বিষয়ে আমি বেশি কিছু আমি বলতে পারব না। তবে আমি ম্যাথু স্যামুয়েলের থেকে টাকা নিয়েছি এবং ভিডিওটিও সত্য। তবে টাকাটা আমি নির্বাচনের জন্য চাঁদা হিসেবে নিয়েছিলাম আর তার বিল এবং রিসিভ কপিও আমার কাছে আছে। আর ম্যাথু স্যামুয়েল সেই বিলটি রিসিভ করেছেন তার সই ও আমার কাছে আছে।
এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের এই প্রভাবশালী সাংসদ আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন লড়তে পৃথিবীর সমস্ত রাজনৈতিক দল চাঁদা নেন। এক্ষেত্রেও আমিও তাই করেছি বলে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি কাকলী ঘোষ দস্তিদারের। একই সঙ্গে তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে আমার কাছে সমস্ত প্রমাণ রয়েছে। যা আমি ইতিমধ্যেই জমা দিয়েছি। শুধু তাই নয় আমি নির্বাচনের জন্য যে চাঁদা নিয়েছি সেটা নির্বাচন কমিশনের কাছেও জানিয়ে দিয়েছি বলে জানিয়েছেন সাংসদ। তিনি দাবি করেন, এই নারদা নিয়ে যে তদন্ত চলছে আমরা চাই সত্য টা উঠে আসুক আর সঠিক ভাবে তদন্ত হলে এই সড়যন্ত্রের পিছনে কারা আছে সেটা নিশ্চয়ই বেড়িয়ে আসবে আর সেই জন্য আমি তদন্তে পুরো সহযোগিতা করছি। আমি এর থেকে বেশি আর কিছুই বলবো না কারন এটা পুরোটাই তদন্ত সাপক্ষে বিষয়।” তবে নারদ কাণ্ডে তদন্তে যখন গতি আসতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময় বারাসাতের সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের এই ধরনের স্বীকারোক্তি যথেষ্ট তাৎপর্য পূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

