মহিলাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, দুই নাবালক সহ গ্রেপ্তার ছয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ সেপ্ঢেম্বর৷৷ রাতের শহর আগরতলায় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ এদিকে, ধর্ষিতার সাথে দুর্ব্যবহার, তাকে অসহযোগিতা এবং ধর্ষণের মামলা না নেওয়ায় দুই পুলিশ আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রাজ্য সরকার৷


প্রসঙ্গত, ২৪ সেপ্ঢেম্বর রাতে আগরতলার নিকটবর্তী ঊষাবাজার এলাকায় নিয়ে গিয়ে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে৷ নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ধর্ষণের পর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে সার্কিট হাউস এলাকায় ফেলে পালিয়ে গেছে ধর্ষকরা৷ জ্ঞান ফেরার পর স্বামী এবং আত্মীয়দের সহায়তায় প্রথমে এ ডি নগর থানা এবং পরে পশ্চিম আগরতলা মহিলা থানায় গিয়েই কোন বিচার পাননি৷ বরং আইনি গ্যাঁড়াকল দেখিয়ে তাদের পুলিশ তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ নির্যাতিতার৷
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনা শুরু পুলিশের৷ চাপের মুখে মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ৷ পূর্ব আগরতলা মহিলা থানা ধর্ষণের মামলা নিয়ে তদন্তে নেমে ছয় যুবককে গ্রেপ্তার করেছে৷ তাদের মধ্যে দুইজন নাবালক বলে পুলিশ জানিয়েছে৷ আজ তাদের আদালতে তুলে হয়েছিল৷


এ-বিষয়ে সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, ওই ধর্ষণের মামলায় পুলিশ রাধাব দাস, প্রদীপ দাস, অজয় সাহা, দীপক দেবনাথ, প্রিয়া মানুষ রায় এবং বিশাল দাস ওই ছয় জনকে পুলিশ আটক করেছে৷ তাদের মধ্যে অজয় সাহা এবং বিশাল দাস নাবালক৷ তিনি জানান, ওই ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি ৩৭৬ডি এবং ১২০বি ধারায় মামলা নিয়েছে৷


সরকারি আইনজীবী বলেন, পুলিশ আজ ওই ছয় জনকে আদালতে সোপর্দ করেছে৷ যেহেতু তাদের মধ্যে দুই যান নাবালক, তাই তাদের জুবেইনাল হোমে পাঠিয়েছে আদালত৷ এদিকে, আদালতে পুলিশ টি.আই প্যারেড এবং পুলিশ হেপাজতের দাবি জানিয়েছিল৷ কিন্তু, আদালত আজ পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেনি৷ তবে, আগামী ৩০ সেপ্ঢেম্বর তাদের টি.এই. প্যারেড এর দিন নির্ধারণ করেছে আদালত৷ ওইদিন ধৃত ছয় জনের টি.এই. প্যারেড হবে৷ ১ অক্টোবর পুনরায় তাদের আদালতে তুলে হবে৷ সরকারি আইনজীবী জানান, ১ অক্টোবর পর্যন্ত ধৃত চারজন জেল হেফাজতে থাকবে৷


এদিকে, কর্তব্যে চরম অবহেলার জন্য এ ডি নগর থানার এসিস্টেন্ট সাব ইন্সপেক্টর শান্তিবাহু ত্রিপুরা এবং পশ্চিম আগরতলা মহিলা থানার এসিস্টেন্ট সাব ইন্সপেক্টর শান্তি রানী দেববর্মাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতাকে অসহযোগিতা এবং মামলা না নিয়ে অযথা হয়রানি করেছেন৷