নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ সেপ্ঢেম্বর৷৷ কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো সহ দেশের আর্থিক অবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার সম্পতি যে সমস্ত ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে তার সুুযোগকে কাজে লাগিয়ে ত্রিপুরায় শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি আজ বিকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, বিনিয়োগকারীরা যাতে এখানে কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, চা, রাবার, পরিকাঠামোর উন্নয়ন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন সেজন্য রাজ্য সরকার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে৷ প্রয়োজনে ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হবে৷ ব্যাঙ্কগুলিও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়েছে৷ ঋণ দেবার পরিমাণ তারা আগের চেয়ে ব’দ্ধি করেছে৷ রাজ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এখানে সি ডি রেশিও ছিল ৩৯ শতাংশ, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ শতাংশ৷ এই অল্প সময়ে সি ডি রেশিও ১৭ শতাংশ ব’দ্ধি পাওয়া একেবারে ছোট বিষয় নয়৷ তবে এতে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ক্ষেত্রে গড় সিডি রেশিও হচ্ছে ৭৮ শতাংশের কাছাকাছি৷ খব কম সময়ের মধ্যেই জাতীয় ক্ষেত্রের এই হার ছোঁয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যৎ ক্ষেত্রের উন্নয়নে ত্রিপুরায় এডিবি-র মাধ্যমে পাওয়া ১৯০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে৷ ত্রিপুরার ছেলে-মেয়েরা যাতে এই প্রকল্পের সুুবিধা নিতে পারেন সেজন্য তাদের এগিয়ে আসতে তিনি আহ্বান জানান৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাবমে ২৫ একর জায়গার উপর স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হবে৷ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব ৮ অক্টোবর এক বৈঠক ডেকেছেন৷ প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশের শিল্পপতিরা যাতে এর সুুযোগ নিতে পারেন সেজন্য সাবমকে বিশেষ করে চিহ্ণিত করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফেনী নদীর উপর বীজের নির্মাণ কাজ ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সম্পর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ এটি হয়ে গেলে উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও অনেক সহজতর হয়ে যাবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্বে যখন আর্থিক মন্দা চলছে৷ সে সময় আমাদের দেশে কর্পোরেট ট্যাক্স হাস করার মত বেশ কিছু ঐহিহাসিক পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার নিয়েছে৷ এজন্য ত্রিপুরাবাসীর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তখন দেশে কর্পোরেট ট্যাক্স সবচেয়ে বেশি ছিল৷ ইউ পি এ সরকারের পর শ্রীমোদির নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর একের পর এক জনমুখী পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়৷ দেশের মানুষ এই প্রকল্পগুলি থেকে যেমন দারুণ উপকৃত হয়েছেন তেম্নি সমগ্র বিশ্বেও এগুলি সমাদৃত হয়েছে৷
খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতি সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে স’ষ্ট আর্থিক মন্দার একটি অন্যতম প্রধান কারণ৷ তিনি বলেন, বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতির কারণে মার্কিন কোম্পানীগুলি চীন থেকে এবং চীনের কোম্পানীগুলি আমেরিকা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে৷ এদের এখন একটা বাজার দরকার৷ বিশ্বের এই অবস্থা দেখে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী দেশের সামনে যে বিকল্প নীতি পেশ করেছেন তার অন্যতম হচ্ছে কর্পোরেট ট্যাক্স হাস করা৷ এতে উৎসাহিত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কোম্পানীগুলি ভারতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে৷ এরফলে সরাসরি উপকৃত হবেন ভারতের জনগণ৷ অর্থনীতির এই ঘোষণার পর সেনসেক্স রেকর্ডমাত্রায় উপরে উঠেছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব খাতে আদায় কম হলেও এরফলে ভবিষ্যতে ৭ থেকে ৮ লক্ষ কোটি টাকা ভারতের বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ এতে একেবারে সর্বশেষ প্রান্তে অবস্থানকারী ব্যাক্তিটিরও রোজগারের পথ খলে যাবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের কতগুলি ব্যাঙ্কের একত্রীকরণ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এতেও দেশের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে৷ পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেলে থাকার ক্ষেত্রে জি এস টি’র হার কমানোয় পর্যটনের উপর এর দারুণ প্রভাব পড়বে বলেও মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন৷ তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য দেশের বর্তমান সরকার নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে৷ এন ই সি’র সর্বশেষ বৈঠকেও পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্পতিক ঘোষণায় আবাসন ঋণ এবং ক্ষুদ্র ঋণের ইএমআই কমানো হয়েছে৷ এর প্রভাবও ভারতের অর্থনীতির উপর পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷ তিনি বলেন, দেখা গেছে বিভিন্ন রাজ্যে এমন সব আবাসন প্রকল্প রয়েছে যেগুলির নির্মাণ কাজ ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হবার পর আটকে রয়েছে৷ এতে বড় মাত্রায় বিনিয়োগ আটকে রয়েছে৷ এখন যেখানে এইসব প্রকল্প আটকে রয়েছে সেখানে অর্থ দিয়ে সাহায্য করার জন্য আলাদা করে ১০ হাজার কোটি টাকার ফাণ্ড রাখা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সাম্পতি ঘোষণা করেছেন এম এস এম ই-র যে প্রকল্পগুলি রয়েছে ২০২০ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এগুলির এন পি এ ঘোষণা করা হবেনা৷
এতে ছোট ছোট কোম্পানীগুলি ঘুরে দাঁড়াবার সুুযোগ পাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷ তিনি বলেন, দেশের ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে উৎসাহ দেবার জন্য ব্যাঙ্কগুলি চলতি বছরের সেপ্ঢেম্বর এবং অক্টোবর মাসে দেশের ৪০০টি জেলায় ছোট ছোট বিনিয়োগকারীদের মুখোমুখি বসিয়ে শিল্পে বিনিয়োগ করার জন্য ঋণ দেবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সি এস আর-র দুই শতাংশ ফাণ্ড কোম্পানীগুলির কাছে থাকে৷ এই ফাণ্ড থেকে এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিনিয়োগ করা যাবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ অর্থাৎ বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি দুই শতাংশ অর্থ এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিনিয়োগ করতে পারবে৷ এতে লাভ নিশ্চিতভাবে ত্রিপুরা পাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন৷

