পৃথক স্থানে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা / কাঞ্চনপুর, ১৪ সেপ্টেম্বর ৷৷ ফের ত্রিপুরায় একইদিনে পৃথকস্থানে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ শনিবার সাতসকালে দক্ষিণ জয়নগর এলাকায় কাঠের সেতু সংলগ্ণ হাওড়া নদীর চরে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ এডিনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, কবিরাজটিলার বাসিন্দা গোপাল বণিকের মৃতদেহ আজ উদ্ধার হয়েছে৷ এদিকে, উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমার নাইসিংপাড়া শরণার্থী শিবির সংলগ্ণ খরমোলং এলাকায় এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷

এদিন সকালে স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী নদীতে মাছ ধরতে গেলে একটি মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখেন৷ দক্ষিণ জয়নগর কাঠের সেতু সংলগ্ণ স্থানে নদীর চরে মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে এডিনগর থানায় খবর দেন পরিমল বণিক৷ তিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা৷ এ-বিষয়ে তিনি জানান, আজ সকালে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে অনেকেই ছুটে যান৷ কেউই মৃতদেহ শনাক্ত করতে পারেননি৷ সঙ্গে সঙ্গে তিনি এডিনগর থানায় খবর দেন৷ খবর পেয়ে পুলিশ ছুটে আসলেও নদী থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না৷

এ-বিষয়ে এডিনগর থানার কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক জানান, নদী থেকে মৃতদেহ তোলার ব্যবস্থা নেই তাঁদের কাছে৷ তাই, জিবি হাসপাতালের মর্গে খবর পাঠানো হয়েছে৷

এদিকে, বেলা সাড়ে এগারটা নাগাদ ওই মৃতদেহটি নদী থেকে তুলে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ৷ এরই মধ্যে তাঁর পরিচয় চিহিণত করতে সক্ষম হয় পুলিশ৷ এডিনগর থানার পুলিশের দাবি, কবিরাজটিলার বাসিন্দা গোপাল বণিকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ কারণ, তাঁর স্ত্রী দীপা বণিক জিবি হাসপাতালে গিয়ে স্বামীকে শনাক্ত করেছেন৷ পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন৷ তবে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হল তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলেই নিশ্চিত হতে পারবে পুলিশ৷ এটি খুন, নাকি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে৷

এদিকে, আজ সকাল দশটা নাগাদ উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমার নাইসিংপাড়া শরণার্থী শিবির সংলগ্ণ খরমোলং এলাকায় বর্ণমালী রিয়াং (৪১)-এর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ তাঁর পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, গতকাল বর্ণমালী রিয়াং জঙ্গল থেকে সবজি আনতে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু, অনেক রাত হয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি৷ ওই সদস্যের বক্তব্য, রাতে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হলেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি৷ আজ সকালে স্থানীয় জনগণ জঙ্গলে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন৷ কাঞ্চনপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সকাল দশটা নাগাদ মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে৷ তবে, তাঁর মৃত্যুর কারণ ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে৷ তাঁকে খুন করা হয়েছে নাকি তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, এ-বিষয়ে পুলিশ একটি মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে৷

প্রসঙ্গত রাজ্যে প্রায়দিন মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যবাসী উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বাড়ছে৷ এভাবে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আঙুল উঠছে৷ বিশেষ করে, আরক্ষা প্রশাসনের ভুমিকায় জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে৷ এদিন দক্ষিণ জয়নগরে মৃতদেহ নদী থেকে উদ্ধার নিয়ে স্থানীয় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল৷ দীর্ঘ সময় ওই মৃতদেহটি নদীর জলে পড়ে থাকলেও কাকে দিয়ে উদ্ধার করা হবে তা নিয়ে পুলিশ ভীষণ চিন্তায় পড়েছিল৷ তা কোনও ভাবে কাম্য নয় বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের৷