নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ সেপ্ঢেম্বর৷৷ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রয়াত রাজকুমারী কমলপ্রভা দেবীর অন্ত্যেষ্টি আজ শুক্রবার রাতে বটতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে৷ ত্রিপুরার উপ-মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মার মাতা প্রয়াত কমলপ্রভা দেবীর মরদেহ আজ সন্ধ্যায় আগরতলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে৷ বিমানবন্দরে
উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়৷ বিমানবন্দর থেকে প্রয়াত রাজকুমারী কমলপ্রভা দেবীর মরদেহ নিয়ে আসা হয় উপ-মুখ্যমন্ত্রীর কুঞ্জবনে অবস্থিত বাসভবনে৷ এখানে প্রয়াত রাজকুমারীরমরদেহে প্রতি টিএসআর দ্বিতীয় বাহিনীর জওয়ানগণ গান স্যালুট প্রদান করেন৷

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ও তাঁর পত্নী নীতি দেব তাঁর মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন৷ তাঁর মরদেহে পুপার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন প্রয়াতার পুত্র তথা উপ-মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা, রাজস্বমন্ত্রী নরেন্দ্রচন্দ্র দেববর্মা, শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ, কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়, বনমন্ত্রী মেবারকুমার জমাতিয়া, বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ, বিধায়ক আশিসকুমার সাহা, বিধায়ক বিপ্লব ঘোষ, বিধায়ক দিলীপ দাস, বিধায়ক রামপ্রসাদ পাল, বিধায়ক দিবাচন্দ্র রাঙ্খল, বিধায়ক আশিস দাস, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র ড় প্রফুল্লজিৎ সিনহা, মুখ্যসচিব ইউ ভেঙ্কটেশ্বরলু, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব কুমার অলক, পুলিশের মহানির্দেশক একে শুক্লা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড় সন্দীপ এন মাহাত্মে, ত্রিপুরা হজ কমিটির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, জনজাতি এবং বিভিন্ন অংশের শোকার্ত মানুষ ও তাঁর পরিবারের সদস্য-সদস্যাগণ৷
শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, রাজকুমারী কমলপ্রভা দেবী ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও
সমাজসেবী৷ আজ তিনি নেই৷ এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়৷ আমি তাঁর বিদেহী আত্মার সদগতি কামনা করি ও শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানাই৷
কুঞ্জবনস্থিত উপ-মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে প্রয়াত রাজকুমারী মরদেহ নিয়ে আসা হয় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে৷ এখানেও তাঁর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা, সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক, বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বর্ণালী গোস্বামী, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা সরকার দেব, তথ্য ও সংসৃকতি দফতরের সচিব মানিকলাল দে, তথ্য ও সংসৃকতি দফতরের অধিকর্তা রতন বিশ্বাস, সদর মহকুমাশাসক অসীম সাহা, রাজপরিবারের সদস্যগণ, শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখক ও বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকগণ৷
এদিন বটতলা মহাশ্মশানে প্রয়াতার অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন হয়েছে৷ সেখানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব ইউ ভেঙ্কটেশ্বরলু এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক একে শুক্লা৷ উল্লেখ্য, তিনি ছিলেন রাজ্যের শেষ মহারাজা কিরীট বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের ছোট বোন৷ রাজ্যের শিল্প-সাহিত্য চর্চার ইতিহাসে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে রাজ্য সরকার তাঁকে ২০১৮ সালে মহারানি তুলসীবতী পুরস্কারে সম্মান জানায়৷ গতকাল মধ্য অসমের নগাঁওয়ে ছোট মেয়ের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর৷

