নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ সেপ্ঢেম্বর৷৷ রাজ্যেপ্রায় ৫ লক্ষ সুবিধাভোগী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন৷ আরও ১৫ লক্ষ সুবিধাভোগী ওই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন৷ তাঁরা চিকিৎসার জন্য বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস সহায়তা পাবেন৷ ওই প্রকল্পের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশের সাথে সাজুয্য রেখে ত্রিপুরায়ও আয়ুষ্মান ভারত পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে৷ শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ-কথা জানান জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডিরেক্টর অদিতি মজুমদার৷

তাঁর কথায়, ১৫ সেপ্ঢেম্বর থেকে ৩০ সেপ্ঢেম্বর পর্যন্ত ত্রিপুরায়ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আয়ুষ্মান ভারত পক্ষকাল পালন করা হবে৷ সাথে যোগ করেন, রাজ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানটি ২৩ সেপ্ঢেম্বরের বদলে ২৫ সেপ্ঢেম্বর আগরতলায় পালন করা হবে৷ নির্বাচন আচরণবিধির জন্য এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে, জানান তিনি৷
এদিন তিনি বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজ্যের আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছর ২৩ সেপ্ঢেম্বর ভারত সরকার দেশব্যাপী আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার সূচনা করেছিল৷ ওই প্রকল্পের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশের সাথে ত্রিপুরায়ও ১৫ সেপ্ঢেম্বর থেকে ৩০ সেপ্ঢেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আয়ুষ্মান ভারত পক্ষকাল পালন করা হবে৷
তিনি জানান, সারা ত্রিপুরায় সমস্ত হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিজ নিজ কেন্দ্রে ওই অনুষ্ঠানটি পালন করার জন্য৷ তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় ৪ লক্ষ ৯৪ হাজার সুবিধাভোগী ওই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছেন৷ আরও ১৫ লক্ষ সুবিধাভোগী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে৷ তিনি বলেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুযোগ নেওয়ার জন্য সারা ত্রিপুরায় সচেতনা কর্মসূচি বাড়ানো হবে৷ ১৫ দিন ধরে সারা ত্রিপুরায় এ-বিষয়ে প্রচার চালানো হবে৷
এদিন তিনি জানান, আয়ুষ্মান ভারতের দুটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার৷ তাতে রাজ্যের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে৷ শুধু তা-ই নয়, তার মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতীকরণ, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ যেমন বহুমুত্র, উচ্চরক্তচাপ, ষাটোর্ধ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবায় প্রাধান্য, দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শয্যাশায়ী রোগীদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা প্রদান ইত্যাদি পরিষেবা প্রসারিত করা হচ্ছে৷ সাথে বলেন, ওই পরিষেবাগুলি প্রদানের জন্য প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে৷ প্রতিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের উদ্যোগে শরীরচর্চা, যোগব্যায়াম প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি৷
মিশন ডিরেক্টর জানান, ত্রিপুরায় বর্তমানে ১৭৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ২৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৫-টি ইউপিএইচসি-তে মায়ের স্বাস্থ্য, শিশুর স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, বয়ঃসন্ধিকালীন মেয়েদের সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগ, রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা-নিরিক্ষা, ওষুধ প্রদান ইত্যাদি বিনামূল্যে প্রদান করার ব্যবস্থা রয়েছে৷ ২০২২-এর মধ্যে বাদবাকি ৮৩২টি উপস্বাস্থ্য, ৮২টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১-টি ইউপিএইচ-কে হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে৷
তিনি জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অপর একটি স্তম্ভ প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় ত্রিপুরায় সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বছরে ৫ লক্ষ টাকা ক্যাশলেস সহায়তা দেওয়া হচ্ছে৷ তাঁর দাবি, গত এক বছরে ২৯ হাজার ৭০০ জনের চিকিৎসার জন্য ১০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে৷ তাছাড়া, ৪৮ জন রোগী বহিঃরাজ্যে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন৷

