এডিসি নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে, দিল্লি ছুটল শাসক জোট শরিক আইপিএফটি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্ঢেম্বর ৷৷ এডিসি নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে৷ তাই, দিল্লি ছুটলেন শাসক জোট শরিক আইপিএফটি৷ মঙ্গলবার বিজেপির সর্বভারতীয় নির্বাচন প্রভারি ডা. জে পি নাড্ডার সাথে আইপিএফটি’র শীর্ষ নেতৃত্বদের বৈঠক হবে৷ সূত্রের খবর, এডিসি নির্বাচনে আসন রফা নিয়ে দর কষাকষি করতেই আইপিএফটি’র নেতারা দিল্লি গিয়েছেন৷ তবে, বিজেপি সূত্রে দাবি, আগামীকাল দিল্লিতে বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলির মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে আইপিএফটি ডাক পেয়েছে৷


ত্রিস্তর পঞ্চায়েত এবং লোকসভা নির্বাচনে আইপিএফটি’র একলা চলো নীতি এডিসি নির্বাচনে তাঁদের চিন্তায় রাখবে৷ কারণ, পাহাড় রাজনীতির সমিকরণ ক্রমশ পরিবর্তন হচ্ছে৷ গণমুক্তি পরিষদ ক্রমেই দুর্বল হয়ে উঠছে৷ তাছাড়া পৃথক রাজ্যের সুড়সুড়িও উপজাতি মহল্লায় দাগ কাটছে না৷ ফলে, আইপিএফটি কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে৷ স্বাভাবিক ভাবে উপজাতি ভোট ব্যাঙ্কে গণমুক্তি পরিষদ ও আইপিএফটির প্রভাব কমতে থাকায় বিজেপি অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে৷


সূত্রের খবর, সোমবার গুয়াহাটিতে নেডার বৈঠক শেষে দিল্লি ছঁুটে গেছেন আইপিএফটি শীর্ষ নেতৃত্ব৷ অবশ্য, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রদেশ সভাপতি বিপ্লব কুমার দেব, উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা এবং শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথও দিল্লি গিয়েছেন৷ বিজেপি সূত্রে দাবি, সামনেই চারটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ ওই রাজ্যগুলিতে নির্বাচনী প্রচারে তারকা প্রচারক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নামও রয়েছে৷ আগামীকাল দিল্লিতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে ওই চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার কৌশল স্থির করে দেবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷
প্রদেশ বিজেপির জনৈক নেতার কথায়, প্রতিবছরই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷

তাতে রাজ্যস্তরীয় সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং সমস্ত প্রতিকূলতা নিয়ে ওই সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ আগামীকালও বৈঠকে ওই সমস্ত বিষয় নিয়ে চর্চা হবে৷ এরই মাঝে ত্রিপুরায় শাসক জোট শরিক আইপিএফটির দিল্লি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক সমিকরণে নতুন রেখাপাত করতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে৷ এডিসি নির্বাচনে বিজেপি’র সাথে জোট বেঁধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে না পারলে আইপিএফটি আবারও মুখ থুঁবড়ে পড়বে তা সাংগঠনিক বৈঠকে নিশ্চিত হয়ে গেছেন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা৷ ফলে, অস্তিত্ব রক্ষায় বিধানসভা নির্বাচনের মতই এডিসি নির্বাচনেও বিজেপির সাথে গাঁট বাঁধতে না পারলে আগামীদিনে সংগঠন টিকিয়ে রাখাই মুশকিল হতে পারে৷


অবশ্য, আইপিএফটি সভাপতি তথা রাজস্ব মন্ত্রী এনসি দেববর্মা এই দিল্লি অভিযানের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন৷ তাঁর কথায়, দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ কিন্তু, আজ তাঁরা দিল্লি রওনা দিয়েছেন বলে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই৷ এদিন তাঁর কথায় অনেকটা দুশ্চিন্তা ফঁুটে উঠেছে৷ দলের দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে ঝেঁড়ে না কাশলেও এডিসি নির্বাচন আইপিএফটিকে যথেষ্ট চাপে রেখেছে বলেই মনে হচ্ছে৷ কারণ, আইপিএফটি’র পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে আন্দোলন ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ছে৷ রাজ্যভাগের জিগির তুলে উপজাতি ভাবাবেগেও প্রভাব ফেলতে পাড়ছে না আইপিএফটি৷ এরই সাথে উপজাতি অংশের যুব সম্প্রদায় ক্রমশ আইপিএফটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে৷ তাই, আগামীকাল ডা. জেপি নাড্ডার সাথে বৈঠকে এডিসি নির্বাচনে আসন রফা নিয়ে মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে শাসক জোট শরিক ওই উপজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক দল, এমনটাই মনে করা হচ্ছে৷