সীমান্তে ধৃত ১২ জন রোহিঙ্গার দায়িত্ব কে নেবে, টানাপোড়েন বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ জুলাই৷৷ বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার পুটিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশকালে আটক রোহিঙ্গাদের নিয়ে আজ রবিবারও কোনও ফয়সালা হয়নি৷ ১২ জন রোহিঙ্গাকে আপাতত ভারত-বাংলা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে জনৈক মানিক মিয়াঁর বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাই দেওয়া হয়েছে৷ সূত্রের খবর, আগামীকাল সকালে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে ফের ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে৷

গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব কে নেবে, এই বিতর্কে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী টানাহ্যাঁচড়া করছে৷ তবে, মানবিকতার খাতিরে ১২ জন রোহিঙ্গাকে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে৷ বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার থেকে নারী, পুরুষ ও শিশু-সহ ১২ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছিলেন৷ বিএসএফ-এর ডিআইজি সিএল বেলওয়া জানিয়েছেন, কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের গৌরাঙ্গলা সীমান্তের ২০৫৩ নম্বর পিলার সংলগ্ণ এলাকা দিয়ে ওই রোহিঙ্গারা ত্রিপুরায় প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন৷ বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতায় তারা এ-পাড়ে আসতে চাইছিলেন৷ তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৫ জন মহিলা এবং ৫ জন শিশু রয়েছে৷ তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধও আছেন৷

এদিকে কলমচৌড়া থানা সূত্রের খবর, বিজিবি বলছে, রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল৷ অন্যদিকে, বিএসএফ-এর দাবি, তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছে৷ এই টানাপোড়েনে রোহিঙ্গাদের ঠিকানা কোথায় হবে সেই বিতর্কের অবসান হচ্ছে না৷

সূত্রের খবর, রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব কে নেবে তা নিয়ে বিএসএফ-বিজিবি দফায় দফায় বৈঠক করেছে৷ আপাতত তাদের জিরো পয়েন্টে মানিক মিয়াঁর বাড়িতে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে৷ তাদের খাবারের পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছে বিএসএফ৷ এ-বিষয়ে বিএসএফ টুআইসি অরুণ ভার্মা জানান, ওই রোহিঙ্গাদের ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি৷ তবে, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে বিএসএফ৷ তিনি জানান, আগামীকাল দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বৈঠক হবে৷ তাঁর আশা, ওই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ফয়সালা হতে পারে৷