নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুন ৷৷ লোকসভা নির্বাচনে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি৷ তাই, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত এবং এডিসি নির্বাচনে আবারও এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝঁুকি নিতে পারছে না আইপিএফটি৷ ত্রিপুরায় বিজেপির জোট শরিক আইপিএফটি-র সভাপতি নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মার সাফ কথা, আসন্ন নির্বাচনগুলিতে জোটবদ্ধ হয়ে নাকি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আইপিএফটি, তা এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷ সবদিক বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷ কিন্তু, আইপিএফটি সহ সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল দেববর্মার কথায়, আসন্ন নির্বাচনগুলিতে এককভাবেই তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন৷ ফলে, জোটের প্রশ্ণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আইপিএফটি-তে মতানৈক্য চরমে বলে মনে করা হচ্ছে৷

আজ সাংবাদিক সম্মেলনে আইপিএফটি সভাপতি তথা রাজস্ব মন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা বলেন, লোকসভা নির্বাচনে দলের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি৷ তাই, বিপর্যয় মোকাবেলায় ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে৷ তিনি জানান, ৬ ও ৭ জুলাই আইপিএফটি-র রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে৷ সেখানে দলের এই বিপর্য্যয় নিয়ে আরো বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে৷
তিনি বলেন, ত্রিপুরায় জোট সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে৷ জোট ভাঙ্গতে পারে বলে মানুষের মনে অযথা ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে৷ তাঁর সাফ কথা, পূর্বোত্তরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে সব রাজ্যেই জোট বেঁধেই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ ত্রিপুরায় এর ব্যতিক্রম হবে এমনটা মনে কোন কারণ নেই, দাবি করেন তিনি৷ তবে, আসন্ন ত্রিস্তর এবং এডিসি নির্বাচনে বিজেপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নাকি এককভাবে লড়বে আইপিএফটি সে-বিষয়ে এখনো কোন আলোচনা হয়নি৷ তাঁর বক্তব্য, সমস্ত দিক চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবে দল৷ তাতে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথেও আলোচনায় আগ্রহী আইপিএফটি৷
এদিকে, আইপিএফটি সহ সাধারণ সম্পাদক আজ দলের সভাপতির উল্টো সুরেই কথা বলেছেন৷ তাঁর সাফ কথা, আসন্ন নির্বাচনগুলিতে আইপিএফটি এককভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে৷ কারণ, ত্রিপুরায় আইপিএফটি একক শক্তিতে বলিয়ান হতে চাইছে৷ তাতে স্পষ্ট, জোট ইস্যুতে নির্বাচনে প্রতিদ্বিন্দ্বিতা নিয়ে আইপিএফটি সভাপতি এবং সহ সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে৷ ফলে, ত্রিপুরায় রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে আইপিএফটি, এমনটা মনে করা ভুল হবে না৷
এদিকে, আইপিএফটি বিধায়কদের দলত্যাগ নিয়ে সমস্ত জল্পনা খারিজ করে দিয়েছেন দলের সভাপতি নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা৷ তাঁর কথায়, দলের কোন বিধায়কের দলত্যাগের সম্ভাবনা নেই৷ কারণ, তাঁর সকলেই দলের প্রতি অনুগত৷ তাছাড়া, দলত্যাগ আইন পরিবর্তীত হওয়ায় সহজে কারোর পক্ষেই দলত্যাগ চট করে সম্ভব নয়৷ নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা বলেন, সংবিধানের দশম তপশিল সংশোধন হয়েছে৷ ২০১৩ সালে ওই সংশোধনীতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, দলত্যাগের ক্ষেত্রে ন্যুনতম দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ক একত্রে দল ছাড়তে হবে৷ তবেই, দলত্যাগীদের বিধায়কপদ বহাল থাকবে৷ তাই, আপাতত ত্রিপুরায় আইপিএফটি বিধায়কদের দলত্যাগের কোন সম্ভাবনা নেই৷

