নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুন ৷৷ রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ণ মোকাবিলা করা একা সরকারের দায়িত্ব নয়৷ জনগণকেও কড়া হাতে তা মোকাবিলা করা উচিৎ৷ বৃহস্পতিবার এইভাবেই ত্রিপুরায় সন্ত্রাস ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আইপিএফটি সভাপতি তথা রাজস্ব মন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা৷ তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়নের ঐতিহ্য ছিল না৷ বাইরে থেকে সেটা আমদানি করা হয়েছে৷ তাই, ত্রিপুরাবাসী এবং ত্রিপুরা সরকারকে মিলে তার মোকাবিলা করতে হবে৷

জম্পুইজলা মহকুমা শাসকের নিগ্রহের ঘটনায় আজ উদ্বেগ প্রকাশ করেন নরেন্দ্রবাবু৷ তিনি বলেন, গত ৩১ মে জম্পুইজলা মহকুমা শাসক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন৷ ওই বৈঠকে তাঁকে নিগ্রহ করা হয়েছে৷ তাঁর কথায়, এ-কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জম্পুইজলায় আইপিএফটি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালি৷ মহকুমা শাসকের নিগ্রহের ঘটনায় আইপিএফটি-কে দোষারোপ করা হচ্ছে৷ তাঁর সাফ কথা, ওই ঘটনার সাথে আইপিএফটি-র কোন যোগ নেই৷ তার মতে, ওই ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র৷ তবুও, এধরনের ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়৷ তাই, নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা মহকুমা শাসক নিগ্রহের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন, চিঠি দিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি৷
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ত্রিপুরায় লোকসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে৷ সারা ত্রিপুরাতেই সন্ত্রাস হচ্ছে৷ আগে এমন পরিস্থিতি ছিল না, উদ্বেগের সুরে বলেন তিনি৷ তবে, রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন মোকাবিলা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয় বলে দাবি করেন তিনি৷ নরেন্দ্রবাবুর কথায়, ত্রিপুরায় রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ণ আমাদানি করা হয়েছে৷ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, পাশ্ববর্তী রাজ্য মণিপুর, মিজোরাম, মেঘালয় এমনকি অসমেও এধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কোন ঘটনা ঘটে না৷ তাই, ত্রিপুরাবাসীকেও রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ণের মোকাবিলা করতে হবে, বলেন তিনি৷ তাঁর সাফ কথা, ত্রিপুরারবাসী এবং ত্রিপুরা সরকারকে মিলে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ণের মোকাবিলা করতে হবে৷ সকলেরই এক্ষেত্রে দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি৷ তাতে স্পষ্ট, রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিয়ে শুধু সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে সমালোচনাকে সমর্থন করেন না নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা৷

