নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ ফেব্রুয়ারী৷৷ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বিকাশমুখী বাজেট৷ এই বাজেটে নতুনত্ব আছে৷ বাজেটের মধ্যে এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ার দিশা ও পরিকল্পনা প্রতিফলিত হয়েছে৷ আজ বিধানসভায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের উপর সাধারণ আলোচনা করতে গিয়ে একথাগুলি বলেন পরিষদীয় ও শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের উপর সাধারণ আলোচনার সূচনা করেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷ শ্রীসরকার রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের কথা উল্লেখ করে বলেন, এবারের বাজেটে বেকারদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তেমন কোন আশার আলো নেই৷ নতুন নিয়োগের ব্যাপারে কোন দিশা দেখাতে পারেনি এবারের বাজেট৷ তাছাড়া তিনি উপজাতি কল্যান, এডিসি, সড়ক সংস্কার সহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বাজেট বরাদ্দ কমানোয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷

প্রস্তাবিত বাজেটকে সমর্থন করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই বাজেটে প্রথমবারের মতো উপজাতিদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা খাতে ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ এই বাজেটে কৃষি, বন, কৌশল বিকাশ, সামাজিক প্রকল্পে আগের তুলনায় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ রাজ্যে গুণগত শিক্ষার বিকাশে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে৷ তিনি আরও বলেন, যুবকরা সরকারি চাকরির মুখাপেক্ষী না থেকে তারা স্ব-উদ্যোগী হয়ে কর্মসংস্থানের সুুযোগ সৃষ্টি করতে চায়৷ এজন্যই বর্তমান বাজেটে রাজ্যের যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে৷ তিনি বলেন, ৪৭ বছর পূর্বে ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্যের স্বীকৃতি পেলেও আজও রাজ্য স্বাবলম্বী হতে পারেনি৷ নতুন সরকার রাজ্যকে সেই অবস্থা থেকে বের করে আনতে চায়৷
এদিকে, বিধানসভার দ্বিতীয় পর্বে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের উপর আলোচনা শুরু করতে গিয়ে বিরোধী দলের নেতা মানিক সরকার বলেন, ত্রিপুরা রাজ্য এখনও স্বাবলম্বী নয়৷ প্রস্তাবিত বাজেটে পরোক্ষভাবে করের বোঝা বাড়বে৷ তিনি বলেন, নতুন সরকার কেন্দ্রীয় সরকার থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও পাচ্ছে৷ এই বাজেটে পূর্ত, উপজাতি কল্যাণ, ইত্যাদি দপ্তরের বাজেট বরাদ্দের উপর সরকারকে আরেকটু দৃষ্টি দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেন৷ তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক ভাতা প্রাপকদের তালিকা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে৷ তাতে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ছে৷ সরকারের এই উদ্যোগকে তিনি প্রশংসনীয় দাবি করার পাশাপাশি বলেন, বহু বয়স্ক মানুষ নানা ধরনের নথিপত্র যোগার করতে গিয়ে চরম হয়রাণির শিকার হচ্ছেন৷ এক্ষেত্রে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন বিষয়টি যাতে বিবেচনা করা হয়৷ তবে, এটাও ঠিক যে মৃত ব্যক্তির নামে কেন ভাতা প্রদান করা হবে৷ সেক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন৷
প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিধায়ক রতন চক্রবর্তী বলেন, নতুন সরকার রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে৷ রাজস্ব বৃদ্ধি হলে তা জনকল্যাণেই ব্যয়িত হবে৷ রাজ্যের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খলে দিয়েছে এই সরকার৷ তিনি আরও বলেন, সামাজিকভাতা প্রকল্পগুলি থেকে ভুয়ো ও মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে৷ প্রকৃত ভাতাপ্রাপকরা কখনও সামাজিক ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন না৷ নতুন সরকার স্বচ্ছ চিন্তাধারা এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে৷ যার সুুফল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পরিলক্ষিত হবে৷ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিধায়ক ডা দিলীপ দাস বলেন, বাজেট অনুসারে কাজ সম্পন্ন হলে আগামী ৩ বছরের মধ্যেই রাজ্যের আর্থ-সামাজিক চেহারা পাল্টে যাবে৷ বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া বলেন, আগে পানীয় জল রাস্তায় রাস্তায় দেওয়া হতো৷
কিন্তু এখন অটল জলধারা প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে যাবে৷ বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস আলোনায় অংশ নিয়ে বলেন, নতুন সরকারের দ্বিতীয় বাজেটও নিষ্কর ও ঘাটতিহীন বাজেট৷ কৃষকদের পাশে থেকে তাদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কাজ করছে এই সরকার৷ এছাড়াও এদিনের আলোচনায় অংশ নেন বিধায়ক ডা অতুল দেববর্মা, বিপ্লব কুমার ঘোষ৷
এছাড়াও প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দের উপর আলোচনা করেন বিধায়ক বিজিতা নাথ, বিধায়ক প্রভাত চৌধুরী, বিধায়ক মহ, মবস্বর আলি প্রমুখ৷