নিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি/আগরতলা/ বিলোনীয়া, ২৭ ফেব্রুয়ারী৷৷ উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর থানার অন্তর্গত বাগবাসা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় রক্তাক্ত এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে৷ মৃতদেহটি এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ভোলা কবিরপন্থির (পানিকা) ৩২ বছরের ছেলে সঞ্জীব কবিরপন্থি (পানিকা) বলে সনাক্ত করা হয়েছে৷

জানা গেছে, আজ বুধবার সকাল প্রায় আটটা নাগাদ বাগবাসা পুলিশ ফাঁড়ি অঞ্চলে অবস্থিত দক্ষিণ গঙ্গানগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ণ চা বাগান এলাকার এক পরিত্যক্ত স্থানে সঞ্জীবের মৃতদেহটি দেখে পুলিশে খবর দেন৷ প্রত্যক্ষদর্শীরাই মৃতদেহটি সনাক্ত করেছেন৷ সঞ্জীব চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন৷
এদিকে খবর পেয়ে স্নিফার ডগ এবং পুলিশের দল নিয়ে বাগবাসা ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষ, এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ধর্মনগর থানার ওসি শ্যামাপ্রসাদ রায় এসে মৃতদেহের এনকুয়েস্ট করেন৷ গোয়েন্দা কুকুর স্থলে তার যাচাই শুরু করে৷ এর পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে মৃতদেহের ময়না তদন্ত করতে ধর্মনগরে সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়৷
ধর্মনগর থানার ওসি শ্যামাপ্রসাদ রায় জানান, মৃত সঞ্জীব কবিরপন্থির মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ণ পাওয়া গেছে৷ প্রাথমিকভাবে ঘটনাকে খুন বলেই মনে করছেন তাঁরা ময়না তদন্তের পর তদন্তে গতি আনা হবে, জানান ওসি শ্যামাপ্রসাদ রায়৷
জানা গেছে মৃত সঞ্জীবের দুই ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে৷ বিয়ে করেছিলেন দক্ষিণ অসমের শিলচরে৷ বিয়ের তিন বছর মনোমালিন্যের জেরে স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকতেন তিনি৷
পরিত্যক্ত লরি থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বোধজংনগর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বোধজংনগর থানার অধীন কাশীপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত লরি থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ মৃত ব্যক্তিকে জনৈক সমেদ মিয়াঁ (৫৭) বলে পরিচয় পাওয়া গেছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, কাশীপুর এলাকায় এক লরির কেবিনে জনৈক ব্যক্তির লাশ দেখে তাঁদের খবর দেন প্রত্যক্ষদর্শীরা৷ খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছেন৷ ট্রাকের কেবিন থেকে মৃতদেহটি বের করে তাকে সমেদ মিয়াঁ বলে সনাক্ত করা হয়৷ এর পর মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করিয়ে সমেদের মৃতদেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷
পুলিশের তদন্তকারী অফিসার জানান, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে মৃত ব্যক্তির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ণ পাওয়া যায়নি৷ তবে নিহত সামেদের ভাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ অফিসার জানান, তিনি শ্বাসজনিত রোগে ভুগছিলেন৷ তার চিকিৎসাও চলছিল৷ কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে সামেদ মিয়াঁ পরিত্যক্ত এই লরিতে রাত কাটাতেন৷
অন্যদিকে, ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, আজ বুধবার বিকেলে শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত তাকমাছড়া দ্রুণজয়পাড়ার গভীর জঙ্গলে ঝুলন্ত অবস্থায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পচাগলা মৃতদেহ দেখতে পান জনাকয়েক ব্যক্তি৷ তাঁরা মৃতদেহটি দেখে মনপাথর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন৷ খবর পেয়ে মনপাথর ফাঁড়ি থেকে পুলিশের এক দল ঘটনাস্থলে যায়৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথামিক তদন্ত করে মৃতদেহটি নামিয়ে ময়না তদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়৷
ব্যক্তির পরিচয় এখনও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ৷ তবে তাঁরা তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানানো হয়েছে৷ পুলিশের তদন্তকারী অফিসার বলেছেন, ব্যক্তিটি আত্মহত্যা করেছেন, না কেউ খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য জঙ্গলের গাছে ঝুলিয়ে পালিয়েছে সে-সব তদন্ত সাপেক্ষ৷ নিহত ব্যক্তির দেহে পচন ধরে যাওয়ায় তাকে ঠিক মতো শনাক্ত করা যাচ্ছে না৷ তাছাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এ ধরনের কোনও নিখোঁজ ডাইরিও নেই৷ তবু চেষ্টা করা হবে তার পরিচয় উদ্ধার করা যায় কি না, জানিয়েছন পুলিশ অফিসার৷