নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ ফেব্রুয়ারী৷৷ চিটফান্ড ইস্যুতে ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যদের সাড়াশি আক্রমণে বিরোধী দলনেতা সহ বিরোধী বিধায়কদের ভিষণ অসহায় বলে মনে হয়েছে৷ বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারকে মঙ্গলবার বিধানসভায় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্য বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক সরাসরি নিশানা করে চিটফান্ডে অর্থ তছরূপ নিয়ে বিধেঁছেনে৷ বিরোধী উপনেতা সহ বিধায়িকা বিজিতা নাথ এদিন ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যদের নিশানায় ছিলেন৷ কিন্তু, তারা কেউই এর প্রতিবাদে কোনও কথা বলার সাহস দেখাননি৷ উল্টো, বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক চিটফান্ডের ব্যবসায় যারা উৎসাহ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব রেখেছেন রাজ্য সরকারের কাছে৷

এদিন, বিধানসভায় প্রশ্ণোত্তর পর্বে বিধায়ক সুশান্ত চৌধুরী এবং বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিকের প্রশ্ণের জবাবে অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বলেন, রাজ্যে মোট ১১৭টি চিটফান্ড সংস্থা আমানতকারীদের আনুমানিক ৩৩২ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা ফেরত দেয়নি৷ তিনি জানান, রাজ্য সরকার সিট, জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারদের রিপোর্ট অনুসারে মোট ২০ টি চিটফান্ড সংস্থার স্বাবর এবং অস্বাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে৷ পরবর্তী সময়ে টিপিআইডি এক্ট অনুসারে মহকুমা শাসকরা সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা আদালতে এই ২০টি সংস্থার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি গুলি এবসোলিউট ঘোষণা করার জন্য আবেদন করেন৷ এই বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে৷
অতিরিক্ত প্রশ্ণ উৎথাপন করে বিধায়ক সুশান্ত চৌধুরী বলেন, রোজভ্যালি নিয়ে অতিতে অনেক চর্চা হয়েছে৷ কিন্তু, কোনও কিছুই সুরাহা হয়নি৷ আগে জানতাম ১৪২টি সংস্থা ব্যবসা শুরু করেছিল৷ যা তদানিন্তন মন্ত্রি , বিধায়কদের হাত ধরে রাজ্যে জাঁকিয়ে বসেছিল৷ তদানিন্তন সরকারের আমলে আমরা জানতে পেরেছি ১৪২টি সংস্থা ১১৭২ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে৷ কিন্তু, এখন দেখা যাচ্ছে সব ভূল তথ্য বিগত সরকারের আমলে দেওয়া হয়েছে৷ শ্রীচৌধুরীর কথায়, পূর্বতন সরকার কখনই চায়নি গরীব মানুষের গচ্ছিত অর্থ ফিরে আসুক৷ কারণ, চিটফান্ড সংস্থার ওয়ারিস কর্তা আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেবে বলে রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন৷ কিন্তু, তদানিন্তন রাজ্য সরকার ওই আবেদনে কর্ণপাত করেনি৷ তিনি জানতে চেয়েছেন, আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থ চিটফান্ড সংস্থা গুলির স্বাবর, অস্বাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ফিরিয়ে দেওয়া কোনও পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের রয়েছে কিনা? এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে সে বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা হবে৷
এদিন, বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিকও চিটফান্ড ইস্যুতে বিরোধীদের একহাত নিয়েছেন৷ তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রোজভ্যালির উদ্বোধন করেছেন৷ বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্যরা চিটফান্ডের ব্যবসায় উৎসাহ দিতেন৷ তিনি সরাসরি বলেন, চিটফান্ড কান্ডে বিরোধী উপনেতা বাদল চৌধুরী এবং বিধায়িকা বিজিতা নাথ সিবিআই-এর নজরে রয়েছেন৷ তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে চিটফান্ডে বহু আমনতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে বর্তমান বিরোধীরাই দায়ি৷
এদিন বিধানসভায় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা চিটফান্ড ইস্যুতে বিরোধীদের তুলোধুনো করলেও তাঁরা কোনও প্রতিবাদ করেনি৷ বরং মুখ বুঝে সবকিছুই হজম করেছেন৷