নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারী৷৷ সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর আহ্বানে সোমবার কৃষক, যুবক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ মুকুবের দাবীতে রাজভবন অভিযান করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস৷ এই উপলক্ষে রবিবার বিকালের পর থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি চলতে থাকে৷ সোমবার সকালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে আসা কর্ম সমর্থকরা জড়ো হতে থাকে কংগ্রেস ভবনের সামনে৷

রাজধানীর পোস্ট অফিস চৌমুহনীস্থিত কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে রাজপথের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সার্কিট হাইস সংলগ্ণ স্থানে সভায় মিলিত হয়৷ প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী সমর্থক এতে অংশ নেয়৷ প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনের নেতৃত্বে পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে রাজভবনের উদ্দেশ্যে কয়েকজন নেতৃত্ব একটি স্মারক লিপি জমা দিতে যায়৷ রাজ্যপালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এই স্মারক দেওয়া হয়েছে৷ যেসব দাবী রাখা হয়েছে ওই স্মারকলিপিতে সেগুলি হচ্ছে, রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের যারা ঋণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারেনি তাদের ঋণ মুকুব করা সহ কৃষকদের ঋণ মুকুবের বিষয়টিও আনা হয়েছে৷ এদিকে, সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা বলেন, দেশের বিজেপি শাসিত সরকার একের পর এক বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ আজ পর্যন্ত তাদের একটি প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি৷ তিনি বলেন, কৃষি ঋণ মুকুবের কথা বলেও সবক্ষেত্রে তা করা হয়নি৷ কংগ্রেস সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাধিক দুই দিনের মধ্য মুকুবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷ দেশের তথা রাজ্যের জনগণকে সেদিক থেকে লক্ষ্য রাখার জন্য আহ্বান রাখে তিনি৷ আরও বলেছেন, বেকারদের কর্ম সংস্থানের কথা বলে এখন উল্টো ছাটাই করছে৷ যারা কর্মেম খোঁজ ধাপ নিয়েছিলেন, অথচ আজ দেওলিয়া হয়ে গিয়েছে৷ তাদের ক্ষেত্রেও ঋণ মুকুবের কথা বলেন তিনি৷
অন্যান্যদের মধ্যে দলের প্রাক্তন সভাপতি বনমালীপুর কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল রায় বলেন, রাজনৈতিক লাভালাভের কথা ভেবে অনেকেই দল ত্যাগ করে আদর্শও বিসর্জন দেন৷ নিজ কেন্দ্রে হেরে গেলেও আদর্শে বিশ্বাসী গোপালবাবুর বক্তব্য একসময় যারা তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন তারাই আবার জয়যুক্ত করবেন তাঁকে৷ আপাতত দলের সাথে দলের স্বার্থেই নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান৷ তার কথায় লোকসভা নির্বাচনের আগে এই তো সবে শুরু৷ কার্যত এদিনের রাজভবন অভিযানে দলের পক্ষে লোকসভা নির্বাচনের আগে দারুণ এক শক্তি পরীক্ষাই বলা চলে৷