গুয়াহাটিতে জুয়েলার্স মালিককে মেরে ডাকাতি, লুট ৩৮ লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ ২.৪০ লক্ষ টাকা

গুয়াহাটি, ২১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : লোমহর্ষক এক ডাকাতির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে গুয়াহাটি মহানগরে। বুধবার রাতে মহানগরের সাতগাঁও এলাকায় এক জুয়েলার্স-এর দোকানে ডাকাতির পাশাপাশি এর স্বত্বাধিকারী (মালিক) প্রসেনজিৎ মোদককে মারধর করেছে চার দুর্বৃত্তের দল। মোদকের হেফাজত থেকে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ২.৪০ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে পালিয়ে গিয়েছে ডাকাতের দলটি। ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সাতগাঁও থানা থেকে পুলিশের এক দল গিয়েছিল। ভুক্তভোগীর অভিযোগ নিয়ে ঘটনা সম্পর্কে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডাকাতের দলকে পাকড়াও করতে তাঁরা জাল বিছিয়েছেন। এদিকে ডাকাত দলের হামলায় আহত জুয়েলার্স মালিক প্রসেনজিৎ মোদকের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার তথ্য দিয়ে ভুক্তভোগী অলোকা জুয়েলার্স-এর স্বত্বাধিকারী প্রসেনজিৎ মোদক জানান, অন্যান্য দিনের মতো গতকাল রাতে দোকানে মজুত প্রায় এক কিলোগ্রাম ওজনের সব সোনার গয়না এবং নগদ ২.৪০ লক্ষ টাকা তাঁর ব্যাগে নিয়ে বাড়ি যেতে বাইরে বেরিয়েছেন। তখনই দুরন্ত দুটি মটর বাইকে চেপে আসে চার দুষ্কৃতি। তারা ব্যাগটি তাদের হাতে তুলে দিতে বলে। তিনি আপত্তি করলে হাতের উদ্যত পিস্তলের বাট দিয়ে তাঁর ডান চোখে আঘাত করে চারজনের এক দুর্বৃত্ত। তখনই অন্য দুই দুষ্কৃতী তাকে ঘুসি এবং লাথি মেরে মাটিতে ফেল হাত থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা ভরতি ব্যাগ ছিনতাই করে বাইকে চেপে দ্রুত পালিয়ে যায়। সেই সময় এলাকা প্রায় জনশূন্য ছিল। এরই মধ্যে কেউ নিকটবর্তী থানায় ফোন করে আহত প্রসেনজিৎবাবুকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর ডান চোখ ও তার নীচের আঘাত লেগেছে।এদিকে এলাকার মানুষ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধ কর্তব্যের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এখানে একটি থানা থাকলেও নিয়মিত টহল দেয় না পুলিশ। গতকাল রাতে সংগঠিত ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের এবং মামলা সম্পর্কে আস্থা রাখতে পারছেন না এলাকার মানুষ। তাঁরা বলেছেন, মূলত পুলিশের গাফিলতিতেই এ ধরনের ঘটনা এই এলাকায় হামেশা ঘটে চলেছে। এর আগেও অলোকা জুয়েলার্স-এ ডাকাতি। আজ পর্যন্ত ওই ডাকাতির কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। তবে এবারের ঘটনায় পুলিশের দৌড়ঝাঁপে তাঁরা কিছুটা আশ্বস্ত বলেও জানান সাতগাঁওয়ের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *