নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ ফেব্রুয়ারী৷৷ জমি মাফিয়াদের দালালি ব্যবসা চালু রাখার জন্যই রাজ্যে অতি উচ্চতল বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এই রাজ্যে৷ ভূমিকম্প প্রবণ ঝুকির যুক্তি তুলে অতি উচ্চতল বিশিষ্ট বাড়ি তৈরী করা যাবে না বলে এতদিন রাজ্যবাসীকে বোঝানো হয়েছে৷ কিন্তু, প্রযুক্তির সহায়তায় এরাজ্যে দশ-বারো তলা বাড়ি নির্মাণ সম্ভব বলে জোর গলায় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তাই বিল্ডিং রুলস সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ তাতে, এখন থেকে রাজ্যে আঠার মিটার উচ্চতা সম্পন্ন বিল্ডিং নির্মাণ করা যাবে৷ এর থেকে উঁচু তলা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে৷

বুধবার খয়েরপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত তুলাকোনায় মেগা ফুড পার্কের উদ্বোধন হয়৷ কেন্দ্রীয় খাদ্য ও প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাধবী নিরঞ্জন জ্যোতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এই পার্কের উদ্বোধন করেন৷
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পূর্বতন সরকারকে তুলোধুনো করেছেন৷ তাঁর কথায়, অতীতে যেকোনও উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ব্যয় হত৷ বহিঃরাজ্য থেকে শিল্পপতিরা এরাজ্যে বিনিয়োগ করতে আসলে তাদের নানা অনুমোদন আদায় করতে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাপ করতে হত৷ ফলে, অনেকেই এইরাজ্যে বাণিজ্য প্রসারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতেন৷ প্রসঙ্গক্রমে তিনি দাবী করেন, পূর্বতন সরকারের আমলে শুধুই কমিশন বাণিজ্য কায়েম হয়েছিল৷ সেজন্যই রাজ্যে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বেড়েছিল৷
তাঁর কথায়, রাজ্যে অতি উচ্চ তল বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব হলেও অতীতে তার অনুমোদনের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি৷ তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, অতি উচ্চ তল বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ হলে জমির প্রয়োজনীয়তা কমবে৷ তাই সেই পথে হাটেনি পূর্বতন সরকার৷ এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জমি মাফিয়াদের ব্যবসা বাড়ানোর জন্যই পূর্বতন সরকার অতি উচ্চ তল বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণে বিল্ডিং রুলস সংশোধন করেনি৷ কারণ, যত বেশী বাড়ি নির্মাণ হবে, জমির প্রয়োজনীয়তা ততই বাড়বে৷ তাতে জমি মাফিয়াদের কমিশন বাণিজ্যেরও শ্রীবৃদ্ধি লাভ হবে৷ সেই লক্ষ্যেই পূর্বতন সরকার বিল্ডিং রুলস সংশোধন করেনি৷
মুখ্যমন্ত্রী এদিন আক্ষেপ করে বলেন, সারা দেশের মধ্যে এরাজ্যে জমির মূল্য সবচেয়ে বেশী৷ তাই রাজ্যের অনেক বাসীন্দারাই বহিঃরাজ্যে ফ্ল্যাট-বাড়ি ক্রয় করে থাকেন৷ তিনি বলেন, এখন বিল্ডিং রুলস সংশোধন করা হয়েছে৷ পূর্বে ১৪৫ মিটার উঁচু বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন ছিল৷ সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিল্ডিং রুলস সংশোধনীতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ তাতে এখন ১৮ মিটার উঁচু বাড়ি নির্মাণ করা যাবে৷ শুধু তাই নয় এর থেকেও উঁচু বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব৷ কিন্তু, এক্ষেত্রে বাড়ি নির্মাণের সমস্ত নিয়ম কানুন পালন করতে হবে৷ ওই নিয়ম কানুন পালন করে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সমগ্র পূর্বোত্তর ভূমিকম্প প্রবণ পাঁচে রয়েছে৷ কিন্তু, গুয়াহাটিতে অতি উচ্চ তল বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ণ তুলে বলেন, গুয়াহাটিতে সম্ভব হলে এরাজ্যে কেন তা সম্ভব হবে না৷
সংশোধিত বিল্ডিং রুলস সম্পর্কে নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব মনোজ কুমার জানিয়েছেন, নয়া নিয়ম অনুযায়ী ১৪৫ মিটার উচ্চতার বদলে এখন ১৮ মিটার উঁচু বাড়ি নির্মাণ করা যাবে৷ অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে পুর ও নগর সংস্থাগুলিকে অধিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে৷ ১৮ মিটারের থেকেও উঁচু বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে সমস্ত নিয়ম পালন করে রাজ্য সরকারের অনুমোদন নিতে হবে৷ পাশাপাশি পুরনো বহুতলের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প রোধক সংস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ ফলে, এখন পুরনো বহুতলগুলিকেও ভূমিকম্প রোধক সংস্কারের মাধ্যমে আইনী বৈধতা মিলবে৷ বেআইনী নির্মাণের ক্ষেত্রে কুড়ি শতাংশ জরিমানা এবং সমস্ত সুরক্ষা পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে ওই নির্মাণ কার্য আইনী অনুমোদন আদায় করতে পারবে৷