ইভাতমাল (মহারাষ্ট্র), ১৬ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): সন্ত্রাসবাদে আর এক নাম পাকিস্তান। মহারাষ্ট্রের ইভাতমালের জনসভা থেকে এমনই ভাষায় পাকিস্তানের নিন্দায় মুখর হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পুলওয়ামার অবন্তীপোরায় জঙ্গি হামলায় ৪২ সিআরপিএফের জওয়ান শহিদ হয়েছেন। তার জেরে গোটা দেশ ক্ষিপ্ত। দেশবাসীর সেই ক্ষোভই ঝড়ে পড়ল প্রধানমন্ত্রী কণ্ঠে। এদিন নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আর্থিক দেউলিয়ার কিনারায় পৌঁছিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। আর আজ সন্ত্রাসবাদের আর এক নাম পাকিস্তান। পুলওয়ামার হামলায় যারা জড়িত এবং এই হামলার জন্য যারা দায়ী, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। আমাদের বীর জওয়ানরাই ঠিক করবে কোথায়, কখন, কি ভাবে এর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। দেশবাসী আমাদের বীর জওয়ানদের জন্য গর্বিত। তাদের প্রতি আস্থাশীল আমারা। আমাদের সিআরপিএফ জওয়ানরা যে আত্মত্যাগ করেছে তা কোনও ভাবেই ব্যর্থ হবে না। অভিযুক্তরা অবশ্যই শাস্তি হবে। সিআরপিএফ জওয়ানদের এই আত্মত্যাগে গোটা দেশ মর্মাহত।’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তোপ দেগে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘দেশভাগের পর পাকিস্তানের জন্ম। সেখানে সন্ত্রাসবাদকে মদত এবং আস্কারা দেওয়া হয়। তারা জঙ্গিদের আড়াল করার যতই চেষ্টা করুক না কেন তাদের প্রত্যেককে নিকেশ করা হবে। পুলওয়ামার হামলায় আমরা সবাই গভীর ভাবে শোকাহত। আমি আপনাদের ক্ষোভ বুঝতে পারছি। হামলায় মহারাষ্ট্রের দুই সন্তান শহিদ হয়েছে। তাদের এই আত্মত্যাগ কোনও ভাবেই ব্যর্থ হবে না।’প্রসঙ্গত, জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) জঙ্গিদের ফিদায়েঁ হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে কাশ্মীর| উরির থেকেও বড় জঙ্গি হামলায় স্তব্ধ গোটা দেশবাসী|
জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপোরায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় এখনও পর্যন্ত ৪২ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে| এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদীদের উদ্দেশ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে| তাঁদের সাহসিকতার উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে| জঙ্গি হামলায় দোষীদের বড়সড় মূল্য চোকাতে হবে|’
পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বৈঠকে বসেছিল মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি| প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ৭, লোক কল্যাণ মার্গে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রমুখ| মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন করতে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী|