নয়াদিল্লি, ৪ জানুয়ারি (হি.স.): সারদা চিটফাণ্ড মামলার তদন্তে অসহযোগিতা করছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার| এমনকি সিবিআই-এর তদন্তে বাধাও দিচ্ছেন তিনি| সিবিআই আধিকারিকদের হেনস্থা, চিটফাণ্ড তদন্তে বাধা দেওয়া-সহ বিভিন্ন বিষয়ে সোমবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)| সোমবার সকালেই সিবিআই-এর নতুন ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন আইপিএস ঋষি কুমার শুক্লা|

এরপরই সিবিআই অফিসারদের হেনস্থার কথা জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা| সোমবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে আবেদন পেশ করেছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা| সারদা চিটফাণ্ড মামলার তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে নির্দেশ দেওয়া হোক, এই মর্মেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিবিআই|
সিবিআই-এর পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এদিন সর্বোচ্চ আদালতে জানিয়েছেন, ‘সারদা চিটফাণ্ড মামলায় একাধিকবার সমন পাঠানো হয়েছিল কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে| কিন্তু, একবারও তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি| এমনকি তদন্তে বাধা দিয়েছেন|’ রবিবার সন্ধ্যার নিগ্রহ প্রসঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জানিয়েছেন, ‘সিবিআই টিমকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছিল এবং হেফাজতে রাখা হয়েছিল| অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করা উচিত কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের|’ সিবিআই-এর বক্তব্য শোনার পরই প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, ‘যদি আপনারা মনে করে থাকেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সমস্ত তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করছেন| তবে, শীর্ষ আদালতের কাছে সেই তথ্য দিন| অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে| এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যে তাঁকে অনুতপ্ত হতে হবে|’ এরপরই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয় মঙ্গলবার|
উল্লেখ্য, এর আগে সিবিআই-এর অন্তর্বর্তীকালীন ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাও বলেছিলেন, ‘রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে তদন্তে বাধা দিয়েছেন তিনি| তদন্তে সাহায্য তো করছেনই না, বহু প্রমাণ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে|’ বহু দিন ধরে নোটিশ পাঠিয়ে জানালেও সিবিআই-কে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন রাজীব কুমার| কার্যত বাধ্য হয়েই রবিবার সন্ধ্যায় পার্কস্ট্রিট থানায় পৌঁছয় সিবিআই অফিসাররা| এরইমধ্যে সিবিআই অফিসারদের তিনটি গাড়ি ঘিরে ফেলে রাজীব কুমারের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি| এরপরই কলকাতা পুলিশের বিরাট বাহিনী পৌঁছয় রাজীব কুমারের বাড়ির সামনে| কলকাতা পুলিশের কথা মতো সিবিআই-এর গাড়ি না সরায় সিবিআই অফিসার তথাগত বর্মণ জায়গা ছাড়তেই আসরে নামে কলকাতা পুলিশ| ধস্তাধস্তি করে পুলিশ গাড়িতে তুলতে থাকে সিবিআই অফিসারদের| নিয়ে আসা হয় সেক্সপিয়র থানায়| দীর্ঘক্ষণ আটক করার পর সিবিআই অফিসারদের ছেড়ে দেওয়া হয়| প্রসঙ্গত, সিবিআই অভিযানের বিরুদ্ধে রবিবার রাত থেকেই ধর্মতলায় ধর্না শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়| রবিবার সারারাতই মঞ্চে বসেছিলেন তিনি| সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ দলের অন্যান্য কয়েকজন নেতাও|