মূল্যবৃদ্ধির কোমর ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্র, অন্তবর্তী বাজেট পেশ করে বললেন অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল

নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): শুরু হল ২০১৯-২০ অন্তবর্তী বাজেট পেশ| সংসদে বিদায়ী সরকারের শেষ বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল| মূল্যবৃদ্ধির হার কমেছে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী| অর্থমন্ত্রীর কথায়, মূল্যবদ্ধির কোমর ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্র| ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় সংস্কার করেছে কেন্দ্র| দেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে কেন্দ্র| দেশ এখন বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে, নিয়ন্ত্রিত হয়েছে মুদ্রাস্ফীতি| ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফিতীর হার মোটে ২.১ শতাংশ| কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হয়ছে, দুর্নীতি কমেছে| বিশ্বের অর্থনীতিতে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ভারত| দেশে ২১৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে| কর কাঠামা উন্নত ও স্বচ্ছ হয়েছে| বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল আরও বলেছেন, এনপিএ কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র| দুর্নীতিমুক্ত সরকার চালিয়েছে কেন্দ্র| কমেছে দেশের রাজস্ব গাটতি| বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত কাঠামো তৈরি হয়েছে| ১০ শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধির হার কমেছে| রাজ্য গুলিকে আয়ের ৪২ শতাংশ দিয়েছে কেন্দ্র| গত ৫ বছরে ভারত আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় নাম| প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় বরাদ্দ করা হয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকা| গতবার ছিল ১৫ হাজার কোটি| চাপের মুখে পড়ে বড় ব্যবসায়ীরা বা ঋণখেলাপিরা ঋণ শোধ করছে| বড় ডিফল্টারদের ছাড়বে না সরকার| দেশে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা| দরিদ্রদের জন্য সংরক্ষণ নিয়ে এসেছি আমরা| গরিবদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করেছে সরকার| তার জন্য বরাদ্দ ২ হাজার কোটি| গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ এখন তিনগুণ বেড়েছে|
দেশ ছেড়ে যারা পলিয়েছে তাদের সম্পত্তি সরকারের কব্জায়|

স্বচ্ছ ভারত প্রকল্প এখন জাতীয় আন্দালনে পরিণত হয়েছে| কর কাঠামা ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা উন্নত ও স্বচ্ছ হয়েছে| হরিয়ানায় তৈরি হচ্ছে ২২ তম এইমস| ২০১৪-র পর ১৪ টি নতুন এইমস গড়ে তোলা হয়েছে| ১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা| আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে| ১০ লক্ষ মানুষ সুবিধা পেয়েছেন| বিভিন্ন কলেজে ২ লক্ষ আসন বৃদ্ধি করা হচ্ছে| রেকর্ড পরিমাণ কৃষিপণ্যের উত্পাদনই সরকারের লক্ষ্য| কৃষকরাই দেশের চালিকাশক্তি| ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য নতুন যোজনা আনা হচ্ছে| ছোট কৃষকদের বছরে ৬ হাজার টাকা সাহায্য করবে সরকার| ৩ ভাগে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে| তিন কিস্তিতে টাকা দেওয়া হবে, খরচ দেবে কেন্দ্র| যে সমস্ত কৃষকদের ২ হেক্টর জমি আছে, তাঁদের বার্ষিক ৬ হাজার টাকা করে দেবে সরকার| অর্থমন্ত্রীর কথায়, তিন ধাপে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পড়ে যাবে| প্রায় ১২ কোটি কৃষক এর ফলে উপকৃত হবেন| কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে ২ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে| প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান বিধি যোজনা চালু হচ্ছে| 


অন্তর্বর্তী বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, গোমাতার উন্নয়নে সরকার পিছপা হবে না| রাষ্ট্রীয় গোকুল যোজনায় বরাদ্দ বাড়ল ৭৫০ কোটি টাকা| চালু হচ্ছে কামধেনু যোজনা| পশুপালনের জন্যও কিষাণ ক্রেডিক কার্ড| কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে ২ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে| করমুক্ত গ্র্যাচুইটি ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হল ২০ লাখ টাকা| গত দু’বছরে ইপিএফও সদস্য সংখ্যা ২ কোটি বেড়েছে| কর্মরত শ্রমিকের মৃতু্যতে মিলবে দ্বিগুণ পিএফ| আড়াই লক্ষ থেকে বেড়ে হল ৬ লক্ষ টাকা| শ্রমিকরে নূন্যতম পেনশন ১ হাজার টাকা| অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য মেগা পেনসন যোজনার প্রস্তাব করছে সরকার| ২১ হাজার আয়ের শিল্প শ্রমিকদের বোনা দ্বিগুণ|


প্রতিরক্ষা খাতে ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ| প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে| জাতীয় সড়ক তৈরিতে বিশ্বে এখন ভারত ১ নম্বর| কলকাতা-বারাণসী কন্টেনার কার্গো পরিষেবা চালু হবে| উজ্জ্বলা প্রকল্পে বিনামূল্যে ৬ কোটি এলপিজি সংযোগ দিয়েছে কেন্দ্র| এ বছই রান্নার গ্যাস পাবেন ৮ কোটি মানুষ| মহিলাদের সশক্তিকরণে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় ৭৫ শতাংশ মহিলা, ২৬ সপ্তাহের মেটারনিটি লিভ, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীত্ব যোজনায়| অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দেশে রক্ষীবিহীন রেলগেট আর নেই| রেলের অপারেটিং রেশিও কমেছে| এ বছর রেলের জন্য নিরাপদতম| ব্রডগেজ লাইনে রক্ষিবিহীন লেভেল ক্রসিং এখন বিলুপ্ত| রেল মানচিত্রে এই প্রথম এল অরুণাচল প্রদেশ| 


অর্থমন্ত্রীর কথায়, আমাদের সৈন্যরা আমাদের গর্ব| সেনাবাহিনীতে এক পদ এক পেনশন ৪০ বছর ধরে আটকে ছিল| আমাদের সরকার এটা বাস্তবায়িত করেছে| ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে| ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় আছেন এমন সেনাদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে| অর্থমন্ত্রীর কথায়, ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ সবথেকে কম| ডেটা ও ভয়েস কলের খরচ সম্ভবত বিশ্বের মধ্যে সবচয়ে কম আমাদের দেশে| ২ থেকে বেড়ে মোবাইল ও মোবাইলের পার্টস তৈরির কোম্পানি হয়েছে ২৬৮টি| সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তের জন্য করের বোঝা আমরা কমিয়েছি| ট্যাক্স রিটার্ন অনেক বেড়েছে| প্রত্যক্ষ করদান ব্যবস্থাকে আরও সহজ করা হয়েছে| আয়কর দাতাদের ধন্যবাদ, এর ফলে গরিবদের উন্নতি হবে| ১২ লক্ষ কোটি টাকা প্রত্যক্ষ কর আদায়|


বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আমাদের সরকার জিএসটি বাস্তবায়িত করেছে| স্বাধীনতার পর এটাই সবচেয়ে বড় আর্থিক সংস্কার| সাধারণ মানুষের উপর থেকে বোঝা কমাতে বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসকে ০-৫ শতাংশ জিএসটি-র আওতায় রাখা হয়েছে| যাঁরা বাড়ি কিনছেন তাঁদের করের বোঝা কমাতে ব্যবস্থা নেবে জিএসটি কাউন্সিল| চলতি বছর জিএসটি-র আওতায় গড় মাসিক কর আদায় হয়েছে ৯৭,০০০ কোটি টাকা|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *