রাজ্যে ৪ লক্ষাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন ভাতা পাচ্ছেন, কারোর বন্ধ হয়নি ঃ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ জানুয়ারি ৷৷ রাজ্যের কিছু কিছু মহল থেকে প্রচার করা হচ্ছে সামাজিক ভাতা বন্ধ করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে৷ যা সত্য নয়৷ গুজব ও কাল্পনিক৷ কারোর ভাতা বন্ধ করা হয়নি৷ প্রতিমাসে ভাতা প্রাপকদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে৷ বর্তমানে সারা রাজ্যে মোট ৩৩টি সামাজিক ভাতা প্রকল্পে মোট ৪ লক্ষ ৩ হাজার ৮৩১ জন ভাতা পাচ্ছেন৷ আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান৷

তিনি বলেন, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ভাতা প্রাপকদের বছরে একবার শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে ভ্যারিফিকেশন করতে হয়৷ সেই অনুসারে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ভাতা প্রাপকদের ভ্যারিফিকেশন করা হচ্ছে৷ এখন পর্যন্ত ৮০ শতাংশ ভ্যারিফিকেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে৷ ফেবয়ারি মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করা হবে৷ তাই এতে অযথা আতঙ্কগ্রস্ত হবার কোন কারণ নেই৷ তিনি জানান, ২০১৫ সালে একবার এই ভ্যারিফিকেশন হয়েছিল৷ তারপর আর হয় নি৷ আগে যারা বি পি এল স্ট্যাটাসে ছিলেন বর্তমানে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হতে পারে, সরকারি চাকুরি পেতে পারেন বা ব্যবসার উন্নয়ন হতে পারে৷ আবার কেউ কেউ এ পি এল রেশন কার্ডধারী আছেন অথচ বাস্তবে তাদের অবস্থা বি পি এল থেকেও খারাপ রয়েছে, এই বিষয়গুলি বর্তমান ভ্যারিফিকেশনে বিবেচনা করা হচ্ছে৷

ইতিমধ্যে রাজ্যে ৫০০ জন ভাতা প্রাপক স্ব-উদ্যোগে নিজেদের নাম দপ্তরের কাছে সারেণ্ডার করেছেন৷ আউট অব স্টেশন রয়েছেন ২৮৭৪ জন৷ গতকাল রাজ্যের সকল সি ডি পি ও এবং জেলা সমাজ কল্যাণ পরিদর্শকদের সাথে ভি ডি ও কনফারেন্স করা হয়েছে৷ তাতে দেখা যায় সুুষ্ঠভাবেই ভ্যারিফিকেশনের কাজ চলছে৷ এই প্রক্রিয়ায় জেলা সমাজ কল্যাণ পরিদর্শকরা হলেন ফার্স্ট অ্যাপিলেট অথরিটি৷ তাদের কাছেও ভাতা প্রাপকরা অভিযোগ জানাতে পারেন৷ তারা এই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবেন৷ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করতে চায়৷ যাই করা হবে সততার সঙ্গে করা হবে৷ দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মাত’ বন্দনা যোজনার আওতায় ১৬,২৩৮ জন জননীকে আনা হয়েছে৷ এই প্রকল্পে প্রথম সন্তানের জননীকে ৩ ধাপে ৫০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়৷ এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জননী সুুরক্ষা যোজনায় প্রত্যেককে দেওয়া হয় ১০০০ টাকা করে৷ জ্যভেনাইল জাস্টিস ফাণ্ডে ক্যান্সার সহ কঠিন রোগে আক্রান্ত ৪০ জন শিশুকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে৷ স্পনসরশিপ প্রকল্পে সারা রাজ্যের ৬৪৪ জন শিশুকে মাসে ২০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে৷ ২০১৭ সালের মার্চ মাসে ধলাই জেলায় সর্ব প্রথম পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে পোশণ অভিযান প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়৷

উদ্দেশ্য, শিশুদের অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করা ও তাদের সার্বিক উন্নয়ন৷ এবছর রাজ্যের ৮টি জেলাকে এ প্রকল্পে অন্তর্ভক্ত করা হয়েছে৷ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮৫৯ জন শিশুকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার৷ তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যের উত্তর জেলার দামছড়াতে একটি নেশা বিরোধীকেন্দ্র রয়েছে৷ নেশা বিরোধী সচেতনতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ৫৫ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে৷ তিনি আরও জানান, বর্তমানে রাজ্যের মোট ৯৯১১টি অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্র রয়েছে৷ আরও ৫০০টি খোলার জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে৷ এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০০টি-র জন্য ম’রি পাওয়া গেছে৷ তিনি ভাতা প্রাপকদের শারীরিক ভ্যারিফিকেশনের কাজে রাজ্যবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন৷ সাংবাদিক সম্মেলনে সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব চৈতন্যমূর্ত্তি ও অধিকর্তা দেবানন্দ রিয়াং উপস্থিত ছিলেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *