নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ জানুয়ারী৷৷ লোকসভা ভোটের আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবিতে খুমুলুঙে বিভিন্ন জনজাতি ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের জমায়েত ভীষণ সাড়া ফেলেছে৷ প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ এদিনের জমায়েতে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ বুধবার এই জমায়েত থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বার্তা দেন, আগে জাতির জন্য ভাবুন৷ কারণ, আমরাও হিন্দুস্থানী৷ পাশাপাশি তিনি এই ইস্যুতে রাজ্য সরকার এবং শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কদেরও বিঁধেছেন৷ তাঁর কথায়, জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে রাজ্যের ষাট জন বিধায়ক জনগণকেই ভুলে গিয়েছেন৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন, কটাক্ষ করেন তিনি৷ এদিন এই জমায়েতে কংগ্রেসের উপজাতি শাখাও অংশগ্রহণ করেছে৷

সামনেই লোকসভা ভোট৷ তাই, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এখন বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের রাজনীতির মূল হাতিয়ার৷ পূর্বোত্তরে এই বিলের মারাত্মক বিরোধীতা করা হচ্ছে৷ ত্রিপুরাতেও এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে না৷ আইএনপিটি, আইপিএফটি তিপ্রাহা, এনসিটি, টিপিএফ, টিএসএফ সহ বেশ কয়েকটি জনজাতি ভিত্তিক রাজনৈতিক দল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধীতায় খুমুলুঙে জমায়েত করেছে৷ প্রত্যন্ত এলাকার প্রচুর জনজাতি এদিন এই জমায়েতে অংশ নিয়েছেন৷ প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে আজ জমায়েতের নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ প্রদ্যুতের নেতৃত্বে লোকসভা ভোটের আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধীতায় রাজ্যে জনজাতিদের এই জমায়েত যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল৷
মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের কথায়, আমরাও ইন্দুস্থানী৷ সেই অর্থে প্রধানমন্ত্রী আগে আমাদের কথা ভাবুন৷ নিজের দেশকে আগলে রেখে তবেই পরশি দেশেড কথা ভাবতে হবে৷ রাজধানীকে বাদ দিয়ে তিনি জনগণের জন্য এগিয়ে আসার বার্তা দিলেন সকলের উদ্দেশ্যে৷ তিনি বলেন, মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেচেন বিধায়কদের৷ এখুন কোথায় গেলেন সেই বিধায়করা? রাজ্যের আট জন বিধায়কের উদ্দেশ্যেই তিনি বার্তা দিতে গিয়ে বলেন, রাজ্য তথা দেশবাসীর উদ্দেশ্যেই তিনি বার্তা দিতে গিয়ে বলেন, রাজ্য তথা দেশবাসীর উদ্দেশ্যেই তাদের এগিয়ে আসা উচিত ছিলো৷ দেশের সরকারের সাথে এদিন রাজ্য সরকারেরও ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন৷ বললেন, কেন্দ্র যে নির্দেশ দেয় রাজ্যও সেটাই করে৷
মহারাজা এদিন বলেন, গত ৮ই জানুয়ারিও মাধববাড়ি এলাকায় একই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলো পৃথক বেশ কটি সংগঠন৷ পুলিশেড গুলিতে সেদিন আহত হতে হয়েছিলো অনেককেই৷ তারপরও এই দাবিতে ইতিবাচক কোনও সাড়া মিলেনি৷ বিধায়কদের কটাক্ষ করে বলেন, এ কোনও রাজ্যপালের পদ নয় যে দিল্লি নির্বাচিত করেছেন তাদের৷ জনগণ তাদেরকে নির্বাচিত করায় তিনি জনগণের দাবি সমন্ধেই অবগত হবার কথা বলেন৷ তিনি স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেন, আজ সেইসব বিধায়কদের পাশে নেই জনগণ৷ যারা জনগণের পাশে থাকেন তাদের পাশেই জনগণ৷
অন্যান্যদের মধ্যে, আইপিএফটি তুইপ্রাহা গোষ্ঠীর পক্ষে সভাপতি অঘোর দেববর্মা, আইএনপিটি সভাপতি বিজয় রাঙ্খল, সাধারণ সম্পাদক জগদীশ দেববর্মা, এনসিটি নেতা অনিমেশ দেববর্মা সহ টিএসএফ এর চেয়ারম্যান উপেন্দ্র দেববর্মা, শ্রীদাম দেববর্মা এবং কংগ্রেস দলের পজাতি সেল, টিপিএফ নেতারাও ছিলেন৷ সকলেই এদিন এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এককাট্টা হয়ে আওয়াজ তুলেছেন৷ কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এদিন অবশ্য পাহাড়ে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে৷ জন সমাবেশেড আগে একটি র্যালিও অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ সুবিশাল এই র্যালিটি দশরাম বাড়ি এলাকা থেকে খুমুলুঙের মোটর স্ট্যান্ডের সামনে এসে শেষ হয়৷ সেখানেই বেলা প্রায় ২টায় শুরু হয় সমাবেশ৷