নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জানুয়ারি৷৷ রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোেগে আজ পদ্মশ্রী ডা রথীন দত্তকে সম্মান প্রদান করা হয়৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডা রথীন দত্ত কয়েক দশক ধরে রাজ্যবাসীর প্রতি সেবার মনোভাব নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন৷ শৈল্য চিকিৎসায় তার অবদান অনস্বীকার্য৷ বর্তমান সময়ে সকল চিকিৎসকদের তাঁকে অনুসরণ করা উচিত৷ কিন্তু তার সেই কর্মকে বিগত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও স্বীকৃতি জাননো হয়নি৷ যা খুবই দুঃখজনক৷ তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে রাজ্যের চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন আশা ও বিশ্বাসের বাতাবরণ বয়ে আনবে৷ তিনি আরও বলেন, আগামীদিনে অন্যান্য চিকিৎসকদেরও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ভালো কাজের জন্য উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে৷

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি বিধায়ক আশিস কুমার সাহা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, উত্তর-
পূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের মানুষের কাছে ডা রথীন দত্ত ছিলেন ভগবানতুল্য৷ তিনি যে সময় রাজ্যের চিকিৎসাপরিষেবার সাথে যুক্ত ছিলেন তখন রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো একেবারেই বালো ছিল না৷ তিনি আরও বলেন, ডা রথীন দত্ত শুধু একজন চিকিৎসকই ছিলেন না ক্রীড়াক্ষেত্রেও তার অবদান অসীম৷ বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসাবেও আসীন ছিলেন৷ প্রয়োজনে খেলোয়াড়দের বিনামূল্যে চিকিৎসাও করেছেন৷ বিধায়ক সুশান্ত চৌধুরী বলেন, অনেক আগেই তাঁকে সম্মান জানানো উচিত ছিলো৷ কিন্তু তা করা হয়নি৷ অনুষ্টানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা রথীন দত্ত বলেন, ত্রিপুরার মানুষকে বড় ভালোবাসী৷ বিভিন্ন রকম সুযোগ থাকার পরও কখনও এই রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কল্পনা করিনি৷ যতটুকু সম্ভব রাজ্যের মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম৷ কিন্তু বিগত দিনে এরজন্য কখনও স্বীকৃতি পাইনি৷ আজ এই সম্মান পেয়ে মনে যত দুঃখ গ্লানি ছিলো সব মুছে গেছে৷ সম্মাননা প্রদানের এই অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ডা দত্তকে মানপত্র ও অঙ্গবস্ত্র তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মন৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্ত্য অধিকারের অইধকর্তা ডা জে কে দেববর্মা৷ উল্লেখ্য, ডা রথীন দত্ত ১৯৬৫ সালে প্রথম জিবি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে যোগদান করেন৷ কর্মজীবনে বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্য দপ্তরের অনেক উচ্চপদেও আসীন ছিলেন৷ ১৯৯১ সালে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর নেন৷ ১৯৯২ সালে বারত সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর সেবামূলক কাজের জন্য পদ্মস্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়৷ এছাড়াও দেশ-বিদেশর বহু সম্মানে তিনি ভূষিত হয়েছেন৷