নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ ডিসেম্বর৷৷ ফের বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে সিপিএম৷ বুধবার সালেমায় দলীয় কর্মী আক্রান্তের ঘটনায় শাসক বিজেপিকেই দায়ী করেছে বিরোধী সিপিএম৷ শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার রাতে পৃথক স্থানে দলীয় কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনার জন্যও বিজেপিকে দায়ী করা হয়েছে৷
বুধবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার গঠিত হওয়ার পর সালেমা বাজারে অবস্থিত পার্টি অফিসটি ভাঙচুর করে বন্ধ করা হয়েছিল৷ বুধবার সকালে সিপিএম কর্মীরা একজোট হয়ে পার্টি অফিসটি পুণরায় খুলে দেন৷ কিন্তু, দুপুর বারটা নাগাদ বিজেপি আশ্রিত স্থানায় দুসৃকতিরা ২০/২৫ জন সংঘবদ্ধভাবে পার্টি অফিসে হামলা চালায়৷ তাদের আক্রমণে সিপিএম সালেমা অঞ্চল সম্পাদক রমনী মোহন দাস বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন৷ আহতদের মধ্যে রমনী মোহন দাস, ফনিলাল দাস, সঞ্জিত ঘোষ, বিদ্যা দেববর্মা, হরিনন্দ দেববর্মা, সুশীল দাস, বিশ্বজিৎ ঘোষ এবং বিশানন্দ দেববর্মাকে ধলাই জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ এই ঘটনার খবর পেয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ, সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী, কমলপুর মহকুমা সম্পাদক অঞ্জন দাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ছুটে যান৷ তাঁরা আহতদের চিকিৎসার খোজখবর নেন৷
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ বিজেপি আশ্রিত সমাজদ্রোহীদের আক্রমণের সময় সিপিএম পার্টি অফিসের পাশেই সালেমা থানার ওসি শ্যামল দেববর্মা এবং সেকেন্ড অফিসার নন্দলাল দাসের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ তারা আক্রমণকারীদের কোন বাধা দেননি৷ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, সালেমা থানার ওসি’র কাছে সিপিএম অঞ্চল কমিটির পক্ষ থেকে আজকের কর্মসূচীর বিষয় জানিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল এবং ২৪ ডিসেম্বর পুণরায় নিরাপত্তা বিধানের অনুরোধ করা হয়েছিল৷
সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে৷ ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত এবং পুলিশের একাংশও এই চক্রান্তের শরিক বলে দাবি সিপিএমের৷ দলের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা বিধান সুনিশ্চিতের দাবী জানানো হয়েছে৷
এদিকে, কুলাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আহতদের এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ জানার পর সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহানির্দেশক আইন-শৃঙ্খলা রাজীব সিং এবং ধলাই জেলা পুলিশ সুপারের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন৷ তিনি পুলিশের ভূমিকায় তাঁদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷
এদিকে, মঙ্গলবার কমলপুর মহকুমার কলাছড়িতে সিপিএম সমর্থক শঙ্কর দাসের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে৷ শ্রীদাসের অভিযোগ, ওইদিন রাতে দুসৃকতিরা তার বাড়িতে ভাঙচুর করেছে৷ তিনি জানান, বেশ কয়েকটি বাইকে চড়ে কয়েকজন দুসৃকতি তার বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে৷ একই ঘটনা ঘটেছে খয়েরপুর এলাকাতেও৷ মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা নাগাদ খয়েরপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পশ্চিম নোয়াবাদি এলাকায় লস্কর পাড়াতে সিপিএম সমর্থক প্রদীপ দাসের ভাঙচুর চালিয়েছে দুসৃকতিরা৷ প্রদীপ দাস সহ পরিবারের সদস্যদের মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে৷ অভিযোগে জানা গেছে, রাতে বেশ কয়েকটি বাইকে চড়ে কয়েকজন দুসৃকতি প্রদীপ দাসের বাড়ির গেইট ভেঙ্গে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে৷ তাতে বাধা দিতে গেলে প্রদীপ দাস সহ তার পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করেছে দুসৃকতিরা৷ শুধু তাই নয়, নগদ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার লুঠ করে দুসৃকতিরা পালিয়েছে বলে অভিযোগ শ্রীদাসের৷ সিপিএম পশ্চিম জেলা কমিটি এক বিবৃতিতে এই খবর জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে৷ দুসৃকতিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছে সিপিএম৷

