জলপথে পণ্য পরিবহনে গোমতী পর্যবেক্ষণ করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ ডিসেম্বর৷৷ জলপথে পণ্য পরিবহনে গোমতী নদী পর্যবেক্ষণ ও ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গাপূর এলাকা পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের অধীন ইনল্যান্ড ওয়াটার ওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিনিধি দল৷ বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দর থেকে ত্রিপুরার সোনামুড়া পর্যন্ত জলপথে ছোট জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ওই প্রতিনিধিদলের সফর বলে জানা গেছে৷ বুধবার আরপি খারের নেতৃত্বে ইনল্যান্ড ওয়াটার ওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়ার যুগ্ম অধিকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিং সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা সোনামুড়ায় শ্রীমন্তপুর স্থলবন্দর এবং গোমতী নদী পর্যবেক্ষণ করে ওই নদীতে ছোট জাহাজ চলাচলের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন৷ টার্মিনাল ভবন নির্র্মণের জন্য গোমতীর দক্ষিন পাড় সহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গাপুর এলাকাও তাঁরা পরিদর্শন করেন৷ আপাতত শ্রীমন্তপুর স্থলবন্দর অফিস কার্যালয় ব্যবহার করে প্রাথমিক কাজকর্ম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এদিন কেন্দ্রীয় দলের পরিদর্শনের সময় সোনামুড়ার মহকুমা শাসক সাজু ওয়াহিদ আহমেদ, জল সম্পদ দপ্তরের বিভাগীয় আধিকারিক, বিএসএফ এবং শুল্ক দপ্তরের অধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন৷

এদিকে, ইনল্যান্ড ওয়াটার ওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়ার সদস্য (ট্রাফিক) শশীভূষণ শুক্লার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের এক প্রতিনিধি দল এদিন সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সাথে সাক্ষাত করেন৷ ওই সময় প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দর থেকে সোনামুড়া পর্যন্ত জলপথে ছোট জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন৷ এই পরিকল্পনাকে সফল ভাবে রূপায়নের জন্য যে সমস্ত বাঁধা রয়েছে তা দূর করে কিভাবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু করা যায় সেই বিষয়েও প্রতিনিধিদলটি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেন৷

এদিন ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কিভাবে জানুয়ারিতে গোমতী নদীর নাব্যতা বাড়ানোর কাজ শুরু করা যায় সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, এই প্রকল্প সফল ভাবে রূপায়ন করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করনিয় তা করা হবে৷ কারণ, এই জলপথের মাধ্যমে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দর থেকে সোনামুড়া পর্যন্ত ছোট জাহাজে করে পণ্য সামগ্রী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে খরচ কম হবে৷ পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ত্রিপুরা সহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্কও বৃদ্ধি পাবে৷ এই প্রকল্প রূপায়িত হলে ত্রিপুরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলির জন্য লজিস্টিক হাব হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা  প্রকাশ করেছেন৷

এই প্রকল্প সম্পর্কে প্রতিনিধি দলের সদস্য অভিষেক চন্দ জানিয়েছেন, সোনামুড়া থেকে চাঁদপুর প্রটোকল রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি যৌথ টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে৷ এর অন্তর্গত ৮০ কিমি দীর্ঘ নদীপথ ব্যবহারের উপযোগি করে তুলবে ইনল্যান্ড ওয়াটার ওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া৷ তিনি জানান, জাহাজ মন্ত্রকের এক প্রতিনিধি দল আগামী মাসে বাংলাদেশের সাথে এই প্রকল্প নিয়ে চুড়ান্ত আলোচনার জন্য ঢাকা যাবেন৷