দুই এনএলএফটি জঙ্গীর আত্মসমর্পণ অস্ত্র ছাড়াই

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ ডিসেম্বর৷৷ রাজ্যের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন এনএলএফটি (বিএম) এর দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে৷ জঙ্গীরা তেলিয়ামুড়ায় বিএসএফের ক্যাম্পে এসে উঠেছিল রবিবার বিকালে৷ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আত্মসমর্পণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে৷ এদিন, শালবাগানস্থিত বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তাদের আত্মসর্মণের বিষয়টি আনা হয়েছে৷ আত্মসমর্পণকালে এখানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের জিআইজি এ কে যাদব, জনসংযোগ আধিকারীক সিএল বেলুয়া সহ অন্যান্য আধিকারীকরা৷ আত্মসমর্পণকারী দুই জঙ্গী হল সঞ্জয় ত্রিপুরা (৪৩) ওরফে সুধন্য৷ বাড়ি ধলাই জেলার আমবাসা থানার অধীন খগেন্দ্র রোয়াজা পাড়ায়৷ অন্যজন হল হীরনজয় ত্রিপুরা (১৯) ওরফে লাম্বু৷ তার বাড়ি ধলাই জেলার ছাওমনু থানার অধীন খাগচাং কামিতে৷ সঞ্জয় ত্রিপুরা ২০০ সালে এনএলএফটি জঙ্গী গোষ্ঠীতে যোগদান করেেেছ৷ ২০০২ সালে অস্ত্র প্রশিক্ষণের পর সে জঙ্গী কার্যকলাপ শুরু করে৷ তার সঙ্গী হীরনজয় ত্রিপুরা ২০১৭ সালে জঙ্গী দলে যোগদান করেছিল৷ এই দুই জঙ্গী জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সময় রাজ্যে ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জঙ্গলে অবস্থান করে জঙ্গী কার্যকলাপ চালাত৷ তারা বিভিন্ন এলাকায় জনগণের কাছে জঙ্গী দলের চাঁদার নোটিশ পাঠানো এবং অর্থ সংগ্রহের কাজও করেছে৷
এদিন, সাংবাদিক সম্মেলনে বিএসএফের ডিআইজি জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে তথা চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিএসএফের কাছে তের জন জঙ্গী আত্মসমর্পণ করেছে৷ গতবছর এই সংখ্যাটি ছিল পাঁচ৷ ডিআইজি এ কে যাদব আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ৫০-৬০ জন জঙ্গী রয়েছে৷ তারাও আত্মসমর্পণ করতে আগ্রহী৷ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেসব জঙ্গী ঘাঁটি রয়েছে সেগুলি গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য সেই রাষ্ট্রের সরকার তৎপর রয়েছে৷ বিভিন্ন সময়ে জঙ্গী নিকেশ অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী, র্যাব সহ বিজিবি কর্তৃপক্ষ৷ তাতে ভাল সাফল্য আসছে বলে দাবি করেন বিএসএফের ডিআইজি এ কে যাদব৷
প্রসঙ্গক্রমে, বিএসএফের ডিআইজি আরও জানিয়েছেন, সামনেই বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন৷ নির্বাচনকে সামনে রেখে ত্রিপুরা বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ কঠোর নজরদারী চালিয়ে যাবে৷ সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিএসএফ সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেন ডিআইজি এ কে যাদব৷