নিজস্ব প্রতিনিধি, কদমতলা, ২২ ডিসেম্বর৷৷ শনিবার দুপুরে উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা থানা এলাকার বজেন্দ্রনগর সরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসা কর্মীদের আবাসনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে কতিপয় উন্মত্ত যুবক৷ এ ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও প্রতিক্রিয়ার৷
ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, হামলাকারী কতিপয় যুবক তাদের বিএমএস এর কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছে৷ ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তারা জানান, আজ দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ অজ্ঞাত কারণে আচমকা বিএমএস পরিচয়ধারী আট দশজনের এক যুবকের দল হাতে ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে তিনটিছোট গাড়িতে ব্রজেন্দ্রনগর হাসপাতলের স্টাফ রুমে ঢোকে ইনচার্জ ডা বীরেশ্বর সাহাকে খঁুজতে থাকে৷ সে সময়ে ডা সাহা
অন্যত্র ছিলেন৷ অগত্যা আগন্তক রণংদেহি যুবকদের সাথে কথা বলতে এগিয়ে যান ওই হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ডা শীলভদ্র সিনহা এবং ডা সজল দেবনাথ৷ তারা তাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যেতেই মারমুখি যুবকরা কর্তব্যরত দুই চিকিৎসকরে অশ্লীল গালিগালাজ করতে থাকে৷ তাদের সরে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়ে এখনই ডা বীরেশ্বর সাহার কোথায় জিগ্যেস করে পরিস্থিতি উত্তাল করে তুলে৷
ডা বীরেশ্ববাবুকে না পেয়ে রাগে অগ্ণিশর্মা হয়ে হাসপাতালের ইনচার্জ ডা সাহাকে খোঁজছিল এবং কেনই বা সরকারি সম্পদ নষ্ট করেছে, তা জানা যায়নি৷ তবে তারা যে গাড়ি করে এসেছিল সেগুলির মধ্যে এমএল ০৫ এফ ০৯০৬ এবং টিআর ০৫ ০৬৭৬ নম্বরের গাড়ি এবং ওগুলিতে স্থানীয় দুই যুবককে চিহ্ণিত করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে৷ তাদের একজন ব্রজেন্দ্রনগরের কিশোর দাস এবং অন্যজন মহেশপুরে রমেন দেব বলে শনাক্ত করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা এদের বিরুদ্ধে এলাকার কুখ্যাত মাফিয়া চক্রের যোগ রয়েছে বলেও নাকি অভিযোগ রয়েছে৷
এদিকে এই ঘটনায় হাসপাতালের রোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷ এলাকার সচেতন মহল এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন৷ ঘটনা সম্পর্কে আজ সন্ধ্যায় কদমতলা থানায় এফআইআর করেছেন বজেন্দ্রনগর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷
এদিকে সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে টেলিফোনে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে স্থানীয়ি বিএমএস সম্পাদক সুব্রত রুদ্রপাল বলেন, হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো৷ সংগঠনের কয়েকজন যুবক বিশেষ কাজে ইনচার্জকে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে হাসাপাতলে গিয়েছিল৷ কিন্তু তাকে হাসপাতালে না পেয়ে ফিরে আসে তারা৷ কিন্তু কে বা কারা, কী করে এ ঘটনাকে ভাঙচুরের ঘটনা বলেরং চড়িয়েছে তা তাঁর জানা নেই৷ তবে মিথ্যা অপবাদ প্রচারকারীদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত করতে পুলিশের কাছে আবেদন জানাবেন সুব্রত রুদ্রপাল৷
2018-12-23

