নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ ডিসেম্বর৷৷ সভ্যতা, সংসৃকতি, প্রাচীন জীবনশৈলীর ধারনা ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য যে কোন দেশ ও জাতির বেড়ে উঠার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ৷ এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সামগ্রীর সংরক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসারে সংগ্রহশালা অর্থাৎ মিউজিয়ামের ভূমিকা অনস্বীকার্য৷ আজ ত্রিপুরা স্টেট মিউজিয়ামে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগ কনজারভেশন অব কালচারেল হেরিটেজ বিষয়ের উপর আয়োজিত ২ দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন করে এ কথাগুলো বলেন শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তিনি বলেন, ২০১৩ সালের সেপ্ঢেম্বর মাসে ত্রিপুরা স্টেট মিউজিয়াম স্থান পরিবর্তন করে চলে আসে উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদে৷ এখানে আসার পর মিউজিয়ামের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পেয়েছ৷ প্রায় দুহাজার কানি এলাকা বিস্তৃত এই প্রাসাদ বহু পর্যটককে আকর্ষিত করে৷ গত ৫ বছরে এখানে প্রায় সাড়ে নয় লক্ষ পর্যটক এসেছে৷ এর মধ্যে প্রায় ৩৫০০ জনেরমত বিদেশী পর্যটকও ছিলেন৷ শিক্ষা ভ্রমণে এসেছে ৫৫ হাজার ছাত্র ছাত্রী৷
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ প্রাসাদ ও মিউজিয়াম নিয়ে দূরদর্শন সহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী চ্যানেলগুলো তথ্যচিত্র তৈরি করেছে৷ যারফলে সর্বভারতীয় পর্যায়ে এর প্রচার হয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে৷ তিনি জানান, এই মিউজিয়ামের আকর্ষণ সাধারণ মানুষের কাছে আরও বাড়ানোর জন্য
বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে৷ এরমধ্যে শিশু, বয়স্কদের জন্য প্রাসাদ চত্বরে ব্যাটাারি চালিত গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে৷ আলোকসজ্জার মাধ্যমে প্রাসাদের সৌন্দর্য বাড়ািেঝনা হবে৷ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, বসার ব্যবস্থা সহ আরও অনেক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে৷ শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এই মিউজিয়ামে ২৫টি গ্যালারী আছে, এর মধ্যে কয়েকটি গ্যালারি সাধারণদের কাছে খুবই জনপ্রিয়৷ ইতিমধ্যে মিউজিয়ামে ডিজিটাল গ্যালারীর ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এর মধ্যে দেশী বিদেশী শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা রাজ্যের লোকসংসৃকতি, শিল্প, সংসৃকতি, সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন৷ একটি কনজারভেটিভ ল্যাবরোটারি স্থাপনের প্রচেষ্টা চলছে৷ যা একটি মিউজিয়াম চালানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ তিনি আরও জানান, রাজ্যের ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলোর সংরক্ষণের জন্য আর্কিওলোাজিকেল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে, যাতে এগুলির সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়৷ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা শিল্প ও সংসৃকতিতে উন্নত৷ রাজ্যের পর্যটন বিকাশে সরকার সচেষ্ট৷ এক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমেই সরকার উন্নয়নমূলক কাজগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে৷ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বনমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া বলেন, ত্রিপুরা শিল্প, সংসৃকতি ও ইতিহাসের একটা ঐতিহ্য রয়েছে৷ ত্রিপুরায় রাজপরিবারের সদস্যরা সাহিত্য, সংসৃকতির বিকাশে সার্থক ভূমিকা রেখেছিলেন৷ ত্রিপুরার রাজারা ছিলেন শিল্প ও সাহিত্যের প্রধান পৃষ্ঠপোষক৷ ঊনকোটি, দেবতামুড়া ত্রিপুরার প্রাচীন ও ঐতিহ্যশালী শিল্পের উৎকৃষ্ট উদাহরণ৷ তিনি বলেন, যেকোন জাাতির ঐতিহ্য ও সংসৃকতির সংরক্ষণ একান্ত প্রয়োজন৷ আমাদের গৌরবময় ঐতিহাসিক দলিলগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ললিতকলা আকাডেমীর অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড কে কে চক্রবর্তী, উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা অমিত শুক্লা ও মহারাজকুমারী প্রজ্ঞা দেববর্মণ৷ পর্যটন দপ্তরের অধিকর্তা বিশ্বশ্রী বি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন৷
দুদিনব্যাপী এই কর্মশালায় রাজ্যের বিভিন্ন মহাবিদ্যালয়, গ্রন্থাগার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন দপ্তরের মোট ৪০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন৷ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসাবে ললিতকলা অ্যাকাডেমীর অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ড কে কে চক্রবর্তী, ইনট্যাক, ভুবনেশ্বরের অধিকর্তা মল্লিকা মিত্র, শান্তিনিকেতনের কিউরেটর ড প্রদীপ কুমার মন্ডল এবং আই আই টি বোম্বের অধ্যাপক রাহুল দেশমুখ উপস্থিত ছিলেন৷
2018-12-18

