সংঘর্ষ চাইনা আমরা ঃ জগদীশ, জাতীয় সড়ক অবরোধ আন্দোলনে শত শত আইএনপিটি নেতা কর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/ তেলিয়ামুড়া, ১০ ডিসেম্বর৷৷ প্রত্যাহার করে নেওয়া হল আএনপিটি’র সড়ক অবরোধ কর্মসূচি৷ সোমবার ভোর ৬টা থেকে আইএনপিটি’র কর্মীরা বড়মুড়ায় খামতিংবাড়ির সামনে পথ অবরোধে বসেন৷ কিন্তু দুপুর পার হতে না হতেই দলের পক্ষ থেকে পথ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়৷ আইএনপিটি’র পথ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক জগদীশ দেববর্মা৷ তিনি জানান, পুলিশ প্রশাসনের সাথে সংঘর্ষ চায় না দল৷ দল রাজ্যে কোনও অশান্তিও চায় না৷ তাই তারা রাজ্যের শান্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই পথ অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন, জানান দলের সাধারণ সম্পাদক জগদীশ দেববর্মা৷
এদিকে, আজ দুপুরে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আগে বড়মুড়ায় ২৬১ জন আইএনপিটি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছ পুলিশ৷ জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নেতারা যথাক্রমে জগদীশ দেববর্মা, রঞ্জিত দেববর্মা, বুধু দেববর্মা প্রমুখ৷ পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১২টায় আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ জানা গেছে, এই অবরোধে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি জনজীবনে৷ রাজ্যের জনজীবন ছিল স্বাভাবিক৷ রেল চলাচল ছিল স্বাভাবিক৷ সড়ক পথে দূরপাল্লার বাসগুলিও নিয়মিত যাতায়াত করেছে৷ ভারত সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৬ বাতিল করার দাবিতে আন্দোলনে বসেছিল ত্রিপুরা জনজাতি ভিত্তিক দল আইএনপিটি৷ তাদের দাবির সমর্থনে সোমবার অ— রাজ্যের সঙ্গে ত্রিপুরার সংযোগকারী একমাত্র জাতীয় সড়ক, রেলপথ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়৷ এদিন সকাল ৬টা থেকে পশিখচম জেলার অন্তর্গত বড়মুড়া পাহাড়ের খামতিং বাড়ি এলাকায় ৮ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা৷ পাশাপাশি রেলপথ এবং পশ্চিম জেলার অন্তর্গত হেজামারা এলাকায় আগরতলা-খোয়াই সড়ক অবরোধ করেন৷ এদিকে ভোররাত থেকে গাড়িতে করে দলের সমর্থকরা আগরতলা শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিমি দূরে খামতিংবাড়ি এলাকায় জড়ো হতে থাকেন৷ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে৷
এদিকে অবরোধকে ঘিরে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এরজন্য প্রচুর সংখ্যক পুলিশ কর্মী এবং আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল৷ নিরাপত্তা কর্মীরা প্রথমে তাঁদের বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করেন৷ কিন্তু তাঁরা রাস্তা ঘিরে রাখেন৷ এর জেরে প্রথম দিকে আগরতলা থেকে রাজ্যের উত্তর প্রান্তের জেলাসহ বহির্রাজ্য গামী যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়৷ দলের সাধারণ সম্পাদক জগদীশখ দেববর্মা জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন৷ যদি সরকার তাদের দাবি না মানে তবে তাঁরা আরও কঠোর আন্দোলন করবেন৷ তবে কী ধরনের আন্দোলন হবে তা তিনি খুলে বলেননি৷ শুধু বলেন, পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে তাঁদের আন্দোলনের ধরণ৷ অবরোধকে ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি৷