হাইলাকান্দির তিন বিধায়কের সদিচ্ছা নেই উন্নয়নের, তাই বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান হিমন্তবিশ্বের

হাইলাকান্দি (অসম), ৬ ডিসেম্বর, (হি.স.) : এআইইউডিএফ-এর তিন বিধায়কই হাইলাকান্দি জেলার উন্নয়নের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের বদৌলতেই জেলার উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। তাই উন্নয়নের চাকা সচল করে তুলতে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ বিজেপি-র হাতে তুলে দেওয়ার আহবান জানালেন রাজ্যের অর্থ, পূর্ত ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
বৃহস্পতিবার হাইলাকান্দির আয়নাখাল চা বাগান মাঠে পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে এসে জেলার অনুন্নয়নের জন্য সরাসরি এআইইউডিএফ দলের টিকিটে নির্বাচিত তিন বিধায়ককে দায়ী করেছেন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী তথা বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনার হিমন্তবিশ্ব। ড. শর্মা বলেন, দিল্লি ও দিশপুরে বিজেপি সরকার। কিন্ত হাইলাকান্দির তিন বিধায়কই বিরোধী দলের। এর ফলে গোটা জেলা অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে আতংকের পরিবেশ সৃষ্টি করে তিন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও আজ কোনও কাজ করতে পারছেন না তাঁরা।
ড. হিমন্তবিশ্ব বলেন, হাইলাকান্দির তিন বিধায়ককে দেখলে মনে হয় ভেঞ্চার স্কুলের কথা। যে ভাবে ভেঞ্চার কখনও সরকারীকরণ হবে না, তদ্রুপ তাঁরাও। তিন বিধায়ক কোনও কাজের নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এঁদের কাজের সদিচ্ছাও নেই। বর্তমানে পুরনো পাঁচশো টাকার নোট যেমন অচল হয়ে পড়েছে ঠিক তেমনি অসমে কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফও সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। হাইলাকান্দি জেলার রাজনীতি হচ্ছে শুধু হিন্দু ও মুসলমানকে নিয়ে ৷ জেলার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্য উন্নয়ন পিছিয়ে যাচ্ছে। জেলা হচ্ছে গেছে ভেঞ্চার। উন্নয়ন চলে যাচ্ছে শতযোজন দূরে। অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে গোটা জেলা।
এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জেলার সর্বশ্রেণির দরিদ্র জনগণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের উল্লেখ করে পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করার আহবান জানান। তিনি বলেন, বিগত কংগ্রেস সরকার শুধু ধুতি আর লুঙ্গি নিয়ে রাজনীতি করেছে। যদি আরও পাঁচ বছর কংগ্রেস শাসনে থাকত তা হলে তাদের চিহ্ন বদলে ধুতি-লুঙ্গি হয়ে যেত।
হাইলাকান্দি জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত নাথের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা আরও বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের জেতান, উন্নয়নের গ্যারান্টি দিচ্ছি আমি।’ অন্তত একবারের জন্য হাইলাকান্দির পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ বিজেপির হাতে তুলে দেওয়ার আহবান জানিয়ে অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে উন্নয়ন না হলে ছুঁড়ে দেবেন আবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *