পুলিশকে পাঁচ রক্তাক্ত দেহ হস্তগত করতে দেওয়া হচ্ছে না, দুর্বৃত্তদের আটক করার দাবিতে উত্তপ্ত ধলা

ধলা (অসম), ২ নভেম্বর (হি.স.): বৃহস্পতিবার রাতে তিনসুকিয়া জেলার সৈখোয়ায় কিংবদন্তি গায়ক ভূপেন হাজরিকার নামে নামাঙ্কিত ধলা-শদিয়া সেতুর কাছে পাঁচ নিরীহ বাঙালিকে আইসিস-এর কায়দায় শূন্য দূরত্ব থেকে সারিবদ্ধভাবে গুলি করে মারার ঘটনায় রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। গণহত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার দাবিতে নিরীহ পাঁচজনের মৃতদেহ পুলিশকে নিতে দিচ্ছেন না তাঁদের পরিবার এবং গ্রামের মানুষ।
অপ্রত্যাশিত কাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবে গোটা তিনসুকিয়া জেলার পরিস্থিতিও উত্তপ্ত, থমথমে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাজপথে প্রকাশ্যে তাঁরা নারকীয় ঘটনার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন। মহিলারা রাজপথে এসে স্থানীয়দের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবিতে পরিস্থিতি উত্তাল করে তুলেছেন। এই শেষ নয়, আরও এ ধরনের হামলা হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এদিকে গুয়াহাটি থেকে হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছেন রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য, পুলিশ-প্রধান কুলধর শইকিয়া প্রমুখ। ইতিমধ্যে সকালেই তিনসুকিয়া এসে পৌঁছেছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী (স্বতন্ত্র) তপন গগৈ। এসেছেন জলসম্পদমন্ত্রী কেশব মহন্ত। তাঁরা পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে তিনসুকিয়া জেলার অন্তর্গত শদিয়ার ধলায় সৈখোয়াঘাটের বাঙালি অধ্যুষিত বিচনিমুখের খেরবাড়িতে সংঘটিত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী জনৈক সুনীল বিশ্বাস নামের যুবক বলেছে, সন্ধ্যায় শ্যামল বিশ্বাসের (৬০) দোকানে বসে সুবল দাস (৬০), অনন্ত বিশ্বাস (১৮), অবিনাশ বিশ্বাস (২৩), ধনঞ্জয় নমঃশুদ্ৰ ওরফে ধনাই (২৩)-রা লুডো খেলছিলেন। সে সময় সেনা পোশাক পরিহিত পাঁচ-ছয়জনের এক দল হিন্দিতে তাদের বাইরে আসতে বলে। হিন্দি ভাষায়। অথচ তাদের ডেকে তারা নিজেদের মধ্যে অসমিয়া ভাষায় কথা বলেছে। এর মধ্যে একজন মোবাইল ফোনে কারোর সঙ্গেও অসমিয়া ভাযায় বর্তালাপও করেছে। এর পর সুবল দাসদের নিয়ে যায় ব্রহ্মপুত্রের ওপর ভূপেন হাজরিকা ধলা-শদিয়া সেতুর কাছে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে নির্বিচারে তাঁদের ওপর একে ৪৭ জাতীয় রাইফেল দিয়ে গুলি বর্ষণ করে। সঙ্গে-সঙ্গে মাটিতে লুটে পড়েন সুবল দাস, অনন্ত বিশ্বাস, শ্যামল বিশ্বাস, অবিনাশ বিশ্বাস, ধনঞ্জয় নমঃশুদ্ৰ ওরফে ধনাই-সহ ছয়জন। তাদের মধ্যে একজনের চিকিৎসা চলছে তিনসুকিয়া সিভিল হাসপাতালে। তাঁর অবস্থা সংকজনক। প্রসঙ্গত, শ্যামল বিশ্বাস, অনন্ত বিশ্বাস এবং অবিনাশ বিশ্বাস একই পরিবারের সদস্য।
বক্তা সুনীল বিশ্বাস কিছু দূরে দেখে ঘটনা সচক্ষে দেখেছে। যুবকটি বলেছে, দুর্বৃত্তরা প্রায় এক মিনিট ধরে গুলি চালিয়ে পায়ে হেঁটেই চলে যায়। কিছু দূর গিয়ে শূন্যে ফের কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে। তারা চলে গেলে গুলিবিদ্ধদের নিয়ে যাওয়া হয় তিনসুকিয়া সিভিল হাসপাতালে। সেখানে পাঁচজনকে মৃত বলে একজনকে
অন্যদিকে অকুস্থল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত থানা কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে গেলে বিপাকে পড়েন স্থানীয়রা। থানার বড়বাবুর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তাই গতকাল রাতে এ ধরনের নরসংহার ঘটবে, এর আগাম তিনি জানতেন বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন গ্রামের মানুষ। তাই থানার বড়বাবুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেওয়ার দাবিও তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিকে অকুস্থল থেকে পুলিশ একে ৪৭ রাইফেলের গুলির অসংখ্য খালি খোল উদ্ধার করেছে।