
শনিবার ভোররাত দু’টো নাগাদ প্রাক্তন-সহকর্মী সানা খানের সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন অ্যাপেল স্টোরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলস ম্যানেজার বিবেক তিওয়ারি| সেই সময় লখনউয়ের গোমতিনগর এলাকায় পেট্রোলিংয়ের সময় গাড়িটিকে থামতে বলেন দু’জন পুলিশ কর্মী| ওই দুই পুলিশ কর্মীর বক্তব্য, ‘গাড়িটিকে না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন গাড়ির চালক| আত্মরক্ষার জন্যই একজন পুলিশ কনস্টেবল গুলি চালান| পরে লোহিয়া হাসপাতালে মৃত্যু হয় বিবেক তিওয়ারির|’ বিবেক-এর প্রাক্তন-সহকর্মী সানা খানের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল প্রশান্ত চৌধুরী এবং তাঁর সহকর্মী সন্দীপ কুমারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ| সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ কালানিধি নৈথানি জানিয়েছেন, ‘পুলিশ কনস্টেবল ভেবেছিলেন গাড়ির ভিতরে বেশ কয়েকজন অপরাধী রয়েছে, তাই আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালান ওই পুলিশ কনস্টেবল| তাছাড়াও একটি বাইককে ধাক্কা মারার পর পালানোর চেষ্টা করে গাড়ির চালক|’ এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে উত্তর প্রদেশের এডিজি আইন ও শৃঙ্খলা আনন্দ কুমার জানিয়েছেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা| ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ নম্বর ধারায় দু’জন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে| কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে| আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে|’
লোহিয়া হাসপাতালের ডিরেক্টর দেবেন্দ্র সিং নেগি জানিয়েছেন, ‘বিবেক তিওয়ারির বাঁ দিকে কানের কাছে গুলির চিহ্ন ছিল| চিকিত্সাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে| মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে|’ পুলিশের গুলিতে অ্যাপেল স্টোরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলস ম্যানেজার বিবেক তিওয়ারি-র মৃত্যুতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে উত্তর প্রদেশ জুড়ে| ক্ষোভে ফুঁসছেন বিবেক-এর পরিবার সদস্যরা| বিবেক-এর স্ত্রী কল্পনা তিওয়ারি জানিয়েছেন, ‘আমার স্বামীকে গুলি করার কোনও অধিকার নেই পুলিশের| মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এখানে আসুন এবং আমার সঙ্গে কথা বলুন|’ কল্পনার ভাই (বিবেকের শ্যালক) বিষ্ণু শক্লার কথায়, ‘বিবেক কি জঙ্গি, যে পুলিশ গুলি চালিয়েছে? এই ঘটনায় নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি|’ আবার বিবেক-এর কাকা তিলকরাজ তিওয়ারি বলেছেন, ‘ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে| আমি নিজে একজন পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব সামলেছি| যোগী আদিত্যনাথ সরকারের আমলে এই ধরনের ঘটনা কখনই ঘটেনি|’ এই ঘটনায় সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (অপরাধ)-এর নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে|