নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ সেপ্ঢেম্বর৷৷ ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে উপ-নির্বাচনে একলা চলো নীতি নিয়েছে বিজেপি৷ এই উপ-নির্বাচনে জোট শরিক

আইপিএফটি’র সাথে বিজেপি’র সমঝোতা হবে না৷ তাই, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জিলা পরিষদের সমস্ত শূণ্য আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দল৷ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই খবর জানিয়েছেন প্রদেশ বিজেপি নেতা তথা শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তাঁর যুক্তি, রাজ্য কিংবা জাতীয় স্তরে নির্দিষ্ট ইস্যুতে সমঝোতা হয়ে থাকে৷ তাই, বিধানসভা নির্বাচনে আইপিএফটি’র সাথে জোট হয়েছে বিজেপির৷ কিন্তু, স্থানীয় স্তরের নির্বাচন এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ ফলে, এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল৷ পাশাপাশি তাঁর আরও যুক্তি, পঞ্চায়েতের উপনির্বাচন দিয়ে রাজ্যে বিজেপির শক্তি পরীক্ষা হয়ে যাবে৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে তা খুবই জরুরী বলে মনে করেন তিনি৷ এদিকে, আসন রফা নিয়ে জোট শরিকের অবস্থান স্পষ্ট হতেই আইপিএফটিও মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে৷ শুক্রবার থেকে আইপিএফটি মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া শুরু করবে বলে জানিয়েছেন দলের সহ-সভাপতি অনন্ত দেববর্মা৷ তাঁর কথায়, সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না আইপিএফটি৷ শুধু উপজাতি আসনগুলিতে প্রার্থী দেবে দল৷
জোট ধর্ম পালন করতে গিয়ে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর বিজেপি ও আইপিএফটি বিভিন্ন সময়ে হোঁচট খেয়েছে৷ ব্লক চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে দুই শরিকের মধ্যে সম্পর্কে তিক্ততা বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে৷ তাই, লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিজেপি এককভাবে শক্তিশালি হয়ে উঠেছে কিনা তা পরীক্ষা করে নেওয়াই এখন মুখ্য লক্ষ্য, দাবি রতন লাল নাথের৷ কারণ, উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় আইপিএফটি’র সহায়তা ছাড়া বিধানসভা নির্বাচনে বিরাট সফলতা সম্ভব হতো না, জোর গলায় দাবি করে এন সি দেববর্মারা৷ এই পরিস্থিতিতে আইপিএফটি লোকসভা আসনে ভাগ বসাতে চাইছে৷ কিন্তু, বিজেপি এনিয়ে কোন সমঝোতায় যেতে চাইছে না৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনে আইপিএফটিকে ছাড়াই লড়াই সম্ভব কিনা, বিজেপি এখন সেটাও মেপে নিতে চাইছে৷
রতন লাল নাথের কথায়, রাজ্যে ৫৮টি ব্লকের মধ্যে ৩৫টি ব্লকে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে৷ তাতে, ৫৯১টি গ্রাম পঞ্চায়েতর মধ্যে ৪২৫টিতে উপ-নির্বাচন হবে৷ মোট ৬১১১টি আসনের মধ্যে উপ-নির্বাচন হবে ৩২০৭টি আসনে৷ পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতির ১৬১টি আসনে এবং জেলা পরিষদের ১৮টি আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ এই নির্বাচনে ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩২১ জন ভোটার রয়েছেন৷ শ্রীনাথের দাবি, এই উপ-নির্বাচন খুবই জটিল, তার পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও বটে৷ তাই, এই নির্বাচনকে বিজেপি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে৷ সে মোতাবেক প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও প্রায় সমাপ্ত হয়েছে৷
শ্রীনাথের কথায়, গ্রাম পঞ্চায়েতে ২৯৮০টি আসনে প্রার্থী বাছাই হয়ে গিয়েছে৷ বাকি ২২৭টি আসনে প্রার্থী রাতের মধ্যেই বাছাই হয়ে যাবে৷ তাঁর বক্তব্য, কাকড়াবন, মাতাবাড়ি, টেপানিয়া এবং আমবাসা ব্লকে আসনগুলিতে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে৷ এদিকে, পঞ্চায়েত সমিতির ১৬১ আসনের মধ্যে ১৫৭টি এবং জিলা পরিষদের ১৮টি আসনেই প্রার্থী চুড়ান্ত হয়েছে৷
এদিন তিনি জানিয়েছেন, উপ-নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় মহিলাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে৷ তাঁর কথায়, তপশিলী জাতি ৪৩০, তপশিলী উপজাতি ১১৬ এবং সাধারণ ক্যাটাগরির ১৪৫২ জন মহিলা প্রার্থী উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন৷ তাঁর মতে, মহিলা সংরক্ষিত আসনের অতিরিক্ত প্রায় ২০০টি আসনে মহিলা প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে৷
এদিন রতন লাল নাথ দাবি করেন, পঞ্চায়েত উপ-নির্বাচন নিয়ে প্রদেশ বিজেপির গঠিত নির্বাচন কমিটি এবং রাজ্য কমিটি মিলে প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত করেছে৷ তবে, প্রার্থী বাছাইয়ের মূল দায়িত্ব পালন করেছেন পৃষ্ঠাপ্রমুখরা৷ তাঁর কথায়, পৃষ্ঠাপ্রমুখরা প্রার্থী ঠিক করে দিয়েছেন৷ তাঁদের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে৷ তাঁর বক্তব্য, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জিলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য যোগ্য, তাঁদেরকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি৷
ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের উপ-নির্বাচনে সমস্ত প্রার্থী দিলেও জোট শরিক আইপিএফটি’র সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি রতন লাল নাথের৷ তাঁর কথায়, উপ-নির্বাচনে সমস্ত আসনে বিজেপি প্রার্থী দেবে, আইপিএফটিকে তা জানানো হয়েছে৷ বিজেপি চাইছে আইপিএফটিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক৷ প্রয়োজনে আসনভিত্তিক সমঝোতা হবে৷ ফলে, উপ-নির্বাচনে বিজেপি ও আইপিএফটি’র মধ্যে জোট হচ্ছে না, এই প্রশ্ণের সরাসরি জবাব না দিলেও কৌশলে এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি তুলে ধরেন শ্রীনাথ৷
তাঁর কথায়, লোকসভা কিংবা বিধানসভা ভোটের সাথে স্থানীয় নির্বাচনকে মেলানো যায় না৷ রাজ্য কিংবা জাতীয় স্থরে নির্দিষ্ট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা হয়ে থাকে৷ কিন্তু, স্থানীয় স্তরের নির্বাচনের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই৷ তাতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনে সমঝোতা হয়েছে বলেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত উপ-নির্বাচনেও আইপিএফটির সাথে সমঝোতা হবে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই৷ সাথে তিনি যোগ করেন, রাজ্যে বিজেপি কতটা শক্তিশালি হয়েছে তা পরখ করাও এখন জরুরী৷ কারণ, কয়েক মাসের মধ্যে লোকসভা নির্বাচন৷ তাই পঞ্চায়েত উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে বুঝে নিতে চাইছি রাজ্যে বিজেপি কতটা শক্তিশালি হয়ে উঠেছে৷
এদিন বিজেপি পঞ্চায়েত উপ-নির্বাচনে আসন নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার সাথে সাথেই আইপিএফটিও মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে৷ দলের সহ-সভাপতি অনন্ত দেববর্মার কথায়, শুক্রবার থেকে আইপিএফটি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া শুরু হবে৷ এদিকে, দলের সভাপতি তথা এন সি দেববর্মার বক্তব্য, শুক্রবার কত আসনে আইপিএফটি প্রার্থী দেবে সে বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

