নির্মীয়মাণ সেপটিক ট্যাংকে শ্বাসকষ্টে মৃত পাঁচ

কোরপুত (ওড়িশা), ২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : নির্মীয়মাণ সেপটিক ট্যাংকে শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হল এক মহিলা সহ মোট পাঁচজনের। এই ঘটনায় একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। রবিবার ওড়িশার রায়গড় জেলার দুর্গি গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রায়গড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াই জগন্নাথ রাও জানিয়েছেন, এদিন প্রথমে ওই নির্মীয়মাণ ট্যাঙ্কে ঢোকেন এক মহিলা শ্রমিক। ভিতরে ঢুকে তিনি আটকে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করতে একে একে পাঁচজন ট্যাঙ্কের ভিতরে ঢোকেন।
এরপর ট্যাঙ্কে শ্বাসকষ্টে পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ট্যাঙ্কের একদিক ভেঙে ভিতরে ঢোকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা ওই ছ’জনকে উদ্ধার করেন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। অপর একজনের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। হিন্দুস্থান সমাচার/ সঞ্জয়
রাস্তার পাশে কাঁচের বোতল পুঁতে রাখা দেখে ল্যান্ডমাইন আতঙ্ক ছাড়াল বেলপাহাড়ির কুমারবাঁধ এলাকায়
ঝাড়্গ্রাম, ২ সেপ্টেম্বর (হি.স.):  রাস্তার পাশে কাঁচের বোতল পুঁতে রাখা দেখে ল্যান্ডমাইন আতঙ্ক ছাড়াল বেলপাহাড়ির কুমারবাঁধ এলাকায়। তবে ওই কাঁচের বোতলে কিছু না পাওয়া যাওয়ায় আপাতত স্বস্তি মিলেছে পুলিশ প্রশাসনের। তবে কে বা কারা নতুন করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে শনিবার রাতে রুটিন মাফিক রাস্তায় টহল দিচ্ছেন যৌথবাহিনি। সেই সময় টহলরত যৌথবাহিনিদের নজরে আসে রাস্তার পাশে গর্ত খুঁড়ে একটি কাঁচের বোতল পুঁতে রাখা হয়েছে। প্রথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান ছিল কেউ বা কারা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এই বোতলটি পুঁতে রাখেন। তবে যেহেতু গোয়েন্দাদের একাধিক রিপোর্টে বার বার উঠে এসেছে বেলপাহাড়ী এলাকায় মাওবাদীদের আনাগোনার খবর। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়কাল থেকে শাসক দলের রাজ্য স্তরীয় নেতা এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বার বার অভিযোগ করেছেন জঙ্গল মহলের ঝাড়খন্ডের সীমান্তবর্তী এলাকার দিয়ে বেলপাহাড়ীতে মাওবাদীরা যাতায়াত করছে বলে। তাছাড়াও এক সময় মাওবাদীদের আঁতুড় ঘর বলে পরিচিত ছিল এই বেলপাহাড়ী। সেকারণেই এদিন কোনও ঝুঁকি না নিয়ে খবর দেওয়া হয় বোম্ব স্কোয়াডকে। পরে বোম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা এসে তাদের পদ্ধতি অনুসারে কাঁচের বোতলটিকে নিস্ক্রিয় করা হয়। নিস্ক্রিয় করার পর বোঝা যায় ওই বোতলটি শুধু মাত্র আতঙ্ক ছড়ানোর জন্যই রাখা হয়েছিল।
তবে এবিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মুখ খুলতে না চাইলেও পুলিশের একটি সুত্র থেকে জানা গিয়েছে, মাওবাদীরা সব সময় নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং অভিনব পন্থা অবলম্বন করে থাকেন।  তাই কোনও রকম ঝুকি না নেওয়ায় ভালো। যেভাবে লালগড়ের ঝিটকার জঙ্গলে অভিনব পদ্ধতিতে ল্যান্ডমাইন রেখেছিল। যা আপেক্ষিক ভাবে দেখিলে মনেই হবে না এটা কোনও বড় ধরনেই ল্যান্ডমাইন। আর সেই ভূলেই লালগড়ের ওসি নীলমাধব দাসের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। তাছাড়া এটাও যে মাওবাদীদের বুবিট্রাপ হবে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে ওই কাঁচের বোতলে কিছু না পাওয়া যাওয়ায় আপাতত স্বস্তি মিলেছে পুলিশ প্রশাসনের। তবে কে বা কারা নতুন করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৩ শে জুন ঘাটশিলা থানা এলাকার নতুনডি গ্রামের কাছে চেকম পাহাড়ের কোলে জঙ্গলে মাওবাদী এবং যৌথবাহিনীর রাতভর গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনার পরেই জঙ্গলমহলের জেলা গুলিতে নতুন করে আবারও মাওবাদীদের উত্থান নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতি বাংলা ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় মাওবাদীদের গতিবিধির খবর  রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশর রিপোর্টে বারে বারে উঠে এসেছিল বাংলা তথা বেলপাহাড়ি ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় মাওবাদীরা পুরাতন করিডর ব্যবহার করে এ রাজ্যে ঢুকতে চেষ্টা করছে।
এবিষয়ে ঝাড়্গ্রাম জেলা পুলিশ সুপার অমিত ভরত রাঠোর বলেন, বেলপাহাড়ীর কুমারবাঁধ এলাকা থেকে একটি বিয়ারের বোলকে দেখে ল্যান্ডমাইল আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। তবে সেই বোলতের মধ্যে কিছু ছিল না। তবে পুলিশ কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে বোমস্কোয়াডকে ডেকে নিস্ক্রিয় করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *