নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ আগস্ট৷৷ এনআরসি চালু হোক এ রাজ্যে৷ তাতে কোন আপত্তি নেই গণমুক্তি পরিষদের৷ কিন্তু, ১৯৭১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এনআরসি চালু করতে হবে রাজ্যে৷ অসমের মতো ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এনআরসি চালু করা হলে তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না৷ মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্ণের জবাবে একথা জানিয়েছেন গণমুক্তি পরিষদের সভাপতি তথা সাংসদ জিতেন্দ্র চৌধুরী৷ তাঁর কথায়, অসমে একটি বিশেষ অংশের মানুষকে হয়রানি করার জন্যই ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এনআরসি চালু করা হয়েছে৷ তাঁর মতে, জাতিগত মেরুকরণ এই পদক্ষেপের একমাত্র উদ্দেশ্য৷
আইএনপিটি এনআরসি চালু করার দাবিতে দিল্লি যাত্রা করেছে৷ ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এ রাজ্যে এনআরসি চালু হোক তা চাইছেন বিজয় রাঙ্খল – জগদীশ দেববর্মারা৷ তবে, এর সাথে সহমত পোষণ করছে না ত্রিপুরা উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ৷ পরিষদের সভাপতি তথা সাংসদ জিতেন্দ্র চোধুরীর কথায়, ১৯৫১ সালের আদমসুমারি অনুসারে ভারতে নাগরিক তালিকা তৈরি হয়েছিল৷ এরপর থেকে কোনও তালিকা তৈরি হয়নি৷ তবে এখন ওই তালিকা সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, তা ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে তালিকা সংশোধন করা উচিত হবে না৷
তাঁর বক্তব্য, ১৯৭১ সালে ইন্দিরা – মুজিব চুক্তি অনুসারে ২৪ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত যারা প্রতিবেশি রাষ্ট্র থেকে ভারতে এসেছেন তাদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷ সুপ্রিমকোর্টে এনআরসি নিয়ে মামলায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের আগে পর্যন্ত যত ভোটার রয়েছেন তাদের তালিকা আপডেট করতে হবে৷ শ্রী চৌধুরীর কথায়, এনআরসি নিয়ে ভারতীয় কোন নাগরিক বিরোধীতা করবে না৷ ফলে গণমুক্তি পরিষদেরও এবিষয়ে বিরোধীতা করার প্রশ্ণই আসে না৷ তবে, ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এনআরসি চালু করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না৷ তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রের সার্বজনীন চুক্তিকে কেউই অস্বীকার করতে পারিনা৷ তবে, অসমে যা হয়েছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক৷ তাঁর কথায়, অসমে বিশেষ একটি অংশের মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে৷ তাদের হয়রানি করার জন্যই ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এনআরসি চালু করা হয়েছে৷ তাঁর কথায়, অসমে জাতিগত মেরুকরণের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি সরকার৷ গণমুক্তি পরিষদ এর তীব্র বিরোধীতা জানাচ্ছে৷
এদিকে, রাজ্য সরকার রাজধর্ম পালন করুক মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তা স্মরণ করালেন পরিষদের সভাপতি তথা সাংসদ জিতেন্দ্র চৌধুরী৷ তাঁর কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী প্রায় সময়ই বক্তব্য রাখতে গিয়ে সকলকে রাজধর্ম পালন করার পরামর্শ দিলেও প্রশাসনিক এবং দলীয় ভাবে কেউই তা মানছেন না৷ ফলে, বিরোধীদের উপর হামলা হুজ্জুতির ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে৷ তাই তিনি রাজ্যে আইনের শাসন পুনুরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন৷

