নয়াদিল্লি, ১০ আগস্ট (হি.স.) : রাজ্যসভার রেকর্ড থেকে মুছে দেওয়া হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কিছু মন্তব্য৷ বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার ডেপুটি

চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে এনডিএ প্রার্থীর জয়ের পর বিরোধীদের প্রার্থীর উদ্দেশ্যে করা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ শুক্রবার রেকর্ড থেকে মুছে দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু ৷
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে এনডিএ প্রার্থী ছিলেন হরিবংশ নারায়ণ সিং৷ অপরদিকে বিরোধী প্রার্থী ছিলেন বিকে হরিপ্রসাদ৷ প্রত্যাশিত মতো জয়ী হন এনডিএ প্রার্থী হরিবংশ নারায়ণ সিং৷ সেই সময় সভাতেই ছিলেন মোদী৷ তিনি জেডি(ইউ) সাংসদ সদ্য জয়ী রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানকে জয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান৷ এরপরেই বিরোধী প্রার্থী বিকে হরিপ্রসাদকে নিয়ে মন্তব্য করেন মোদী৷ সেই মন্তব্যই মুছে দেওয়া হয়৷
জানা গিয়েছে, বিরোধীদের একাংশ মোদীর সেই মন্তব্যের বিরোধীতা করেন৷ তাদের কাছে সেই মন্তব্য ‘আপত্তিকর’ ও ‘অপমানজনক’ মনে হয়েছে৷ কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, ‘সংসদে খোদ প্রধানমন্ত্রীই অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করছেন, এটা দেশের পক্ষে লজ্জাজনক। তাঁর আরও সংযোজন, ”আমি মনে করি নরেন্দ্র মোদী সুবক্তা। শব্দ নিয়ে খেলতে গর্ববোধ করেন উনি। তা প্রশংসাযোগ্যও। তবে এটাও লক্ষ্য রাখা দরকার, ভাবপ্রকাশের সৃজনশীলতা যেন সীমা লঙ্ঘন না করে। আমার মনে হয়, উনি সেই সীমা অতিক্রম করেছেন”। বিকে হরিপ্রসাদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য সংসদের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করেছে৷
এবিষয়ে বিরোধীদের আশ্বস্ত করে বেঙ্কাইয়া নাইডু জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন৷ এরপর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ শুক্রবার রেকর্ড থেকে মুছে দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু ৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালেরএকটি শব্দও রেকর্ড থেকে মুছে দেওয়ার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান৷
প্রসঙ্গত, সংসদের কার্যনির্বাহী থেকে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর বলা কোনও শব্দ বাদ পড়েনি। এর আগেও ঘটেছিল। ২০১৩ সালে অরুণ জেটলি ও তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাদানুবাদ হয়েছিল। দুজনের কয়েকটি শব্দ সংসদের রেকর্ড থেকে মুছে দেওয়া হয়।