কলকাতা, ১১ আগস্ট (হি. স.): নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে বিজেপি সভাপতিকে। নইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে তৃণমূল। সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি সভাপতির অমিত শাহের উদ্দেশে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। রাজ্যে এসে তৃণমূল সরকারের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ এবং বাংলার সরকার দুর্নীতিগ্রস্থ বলে শনিবার মন্তব্য করেছেন বিজেপি সর্ব ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷
এর জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ তৃণমূলের পক্ষ থেকে ডেরেক ও ব্রায়েন এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন বাংলাকে অপমান করছেন অমিত শাহ৷ ডেরেকের অভিযোগ, বাংলার সংস্কৃতিকে অপমানই শুধু তাই নয়, অমিত শাহের অভিযোগও ভিত্তিহীন৷ এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অমিত শাহের দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ডেরেক। এদিন সভায় অমিত শাহ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের পাঠানো টাকা দুর্নীতি করে টাকা গায়েব করে দিচ্ছে ‘ভাই-ভাইপো’। তৃণমূলের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সারদা, নারদা, রোজভ্যালি, সিন্ডিকেট, কয়লা মাফিয়া, বন্দর মাফিয়ারা পশ্চিমবঙ্গ দখল করে নিয়েছে। যার পাল্টা অমিত শাহকে \”দুর্নীতির ডাকাত, দাঙ্গার ডাকাত\” বলে উল্লেখ করেন ডেরেক। বলেন, \”অসভ্যতারও একটা সীমা থাকে। বাংলায় এসব চলবে না।\” অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে অমিত শাহকে আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন।
এদিন সভায় অমিত শাহ এনআরসি ইস্যুতে একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি ইস্যুতে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। বলেন, একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে বাংলাদেশিদের ভোট সিপিএম-এর ভোটবাক্সে ঢুকছে। লোকসভা অচল করে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর দাবি তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু, আজ সেই অনুপ্রবেশকারীদের ভোট বাঁচাতেই তত্পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহের এই অভিযোগকেও সাফ খারিজ করে দিয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অমিত শাহ। কিন্তু অমিত শাহ প্রশ্ন তোলার কে? পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন ডেরেক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এনআরসি নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট। তৃণমূল সস্তার রাজনীতি করে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর দুর্নীতির কাদা ছুঁড়লে, বাংলার মানুষ অমিত শাহকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বলেও এদিন সাংবাদিক বৈঠকে হুঁশিয়ারি দেন ডেরেক। বলেন, \”একদিন এমন আসবে, যেদিন বাংলা থেকে পালিয়ে যাবেন অমিত শাহ।\”