ভাঙড়, ১১ আগস্ট (হি.স.) : দীর্ঘ দেড় বছরের লড়াই আন্দোলনের পর অবশেষে জট কাটলো ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড সমস্যার। তবে পাওয়ার গ্রিডের পরিবর্তে পাওয়ার পাওয়ার সাব স্টেশান তৈরিতে জেলা প্রশাসন রাজী হওয়ায় কার্যত এই জট কেটে যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সুত্রে জানানো হয়েছে আগামী মঙ্গলবার থেকেই শুরু হবে পাওয়ার সাব স্টেশানের কাজ। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন, পাওয়ার গ্রিড কত্রিপক্ষ ও জমি কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। কার্যত গত দেড় বছর ধরে ঝুলে থাকা এই পাওয়ার গ্রিড সমস্যার সমাধান হল শনিবারের বৈঠকে।
পাওয়ার গ্রিডের পরিবর্তে পাওয়ার সাবস্টেশান তৈরির সিদ্ধান্ত জেলা পরিষদের তরফ থেকে ঘোষণার পরই কার্যত জট কাটতে শুরু করেছিল। গত এক মাসে হওয়া জেলা প্রশাসনের সাথে আগের দুটি বৈঠকেই কার্যত ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে এই ভাঙড় সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। এর পাশাপাশি পাওয়ার গ্রিড হলে যে ষোলোটি বিদ্যুতের লাইন যাওয়া আসার কথা ছিল, সেই ষোলোটির পরিবর্তে পাওয়ার সাব স্টেশানের জন্য মাত্র দুটি বিদ্যুতের লাইন যাবে ঐ এলাকা থেকে বলে ও জেলা প্রশাসন ও পাওয়ার গ্রিড কত্রিপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়। এছাড়া যাদের জমির উপর দিয়ে এই পাওয়ার সাব স্টেশানের তাঁর যাওয়া আসা করবে তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ও ঘোষণা করা হয়েছে। তেরো জনের কমিটি এই পাওয়ার সাব স্টেশান তৈরির কাজ দেখাশুনা করবে বলে জেলা প্রশাসন সুত্রে জানানো হয়েছে। এসবের পাশাপাশি ভাঙড় এলাকার উন্নয়ন ও ভাঙড়বাসীর জন্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করবে জেলা প্রশাসন। কার্যত শনিবারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পরেই কেটে যায় ভাঙড়ের এই পাওয়ার গ্রিডের জট। তবে সরকার যদি তার দেওয়া কথা কোন ভাবে না রাখে তাহলে আবারও আন্দোলনে নামবে এই ভাঙড়বাসী, বলে জানান আন্দোলনকারীরা। তবে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড সমস্যার সমাধান হওয়ায় খুশি জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সদস্যরা। তাদের মুখপাত্র অলীক চক্রবর্তী বলেন, “ আমরা প্রথম থেকেই সরকারকে বলে এসেছিলাম শান্তিপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হোক। দেরীতে হলেও সরকার ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সেটা বুঝতে পেরেছে। সেজন্য তাদের ধন্যবাদ। তবে যদি আরও আগে তারা এটা বুঝতেন তাহলে এই লড়াই আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন তাদেরকে হয়তো এই অকালে মরতে হতো না”। এই রফা সুত্রে কার্যত নিজেদের জয় দেখছেন আন্দোলনকারীরা। তবে তাদের দাবী, সরকার যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি না পালন করে, তাহলে আবারও আন্দোলনের পথে নামবেন ভাঙড়বাসী।